rabbhaban

বেঁধে দেয়া সময়েও রূপগঞ্জে অপসারন হয়নি নির্বাচনী প্রচারনার উপকরণ


রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
বেঁধে দেয়া সময়েও রূপগঞ্জে অপসারন হয়নি নির্বাচনী প্রচারনার উপকরণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণামূলক ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, তোরন, দেয়াল লিখনসহ সবকিছু গত রোববার রাত ১২টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা দেয়া হলেও নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের বর্তমান সাংসদের বেশীরভাগ প্রচারপত্র সরানো হয়নি। রূপগঞ্জের মহাসড়ক-প্রধানসড়ক সহ অলিগলি আর গুরুত্বপূর্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে তার বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এসব সরানোর কথা থাকলেও তা সরানো হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনসহ উপজেলা নির্বাচন অফিস ও পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ অজ্ঞাত কারনে নিচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এ কারণে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও যত্রতত্র নির্বাচনী প্রচারণামূলক ব্যানার, পোস্টার, তোরন ও ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, গত ৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ১৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রচারণামূলক ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, তোরন, দেয়াল লিখনসহ সককিছ সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রথম দফায় বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণামূলক কার্যক্রম অপসারণ না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ১৮ নভেম্বর রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রচারপত্র সরিয়ে ফেললেও রূপগঞ্জের বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর কোন তোরন, ব্যানার ফেস্টুন সরানো হয়নি। রূপগঞ্জের মহাসড়ক-প্রধানসড়ক সহ অলিগলি আর গুরুত্বপূর্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে তার বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রম। প্রধান প্রধান সড়কে রয়েছে বেশ কিছু তোরন। হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্নস্থানে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড রয়েছে অসংখ্য। আছে দেয়াল লিখনও। অথচ নির্বাচন কমিশন থেকে বলা আছে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, তোরণ, প্যান্ডেল বা আলোকসজ্জা, প্রচারণা ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে সেসব বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। আর সেটা না হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ) এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্ত সেসকল দপ্তরও অজ্ঞাত কারনে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফাতে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সকল ধরনের পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, গেট, তোরণ বা ঘর, প্যান্ডেল বা আলোকসজ্জা, প্রচারণা ও নির্বাচনী ক্যাম্প থাকলে সেসব বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে উপজেলা প্রশাসন থেকে আদেশজারী সহ মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও যেসব অপসারন করা হয়নি সেগুলো সরানোর জন্য মেয়র-চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আতাউর রহমান জানান, রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে নারায়ণগঞ্জে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাঠে নেমেছেন। কেউ আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর