rabbhaban

ধরাকে সরা জ্ঞান করা খলিল মেম্বারের রাজত্ব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
ধরাকে সরা জ্ঞান করা খলিল মেম্বারের রাজত্ব

খলিল মেম্বার একজন ইউপি সদস্য হয়ে নিজেকে স্বঘোষিত গডফাদার রুপে জাহির করতে নানা কৌশল ও একাধিক বাহিনী গঠন করে মদনপুরকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। পরিবহন সেক্টর, মাদক ব্যবসা, বিচার শালিসীর নামে অমানবিক নির্যাতন করার মত প্রমাণ সহ অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর ও ১২ জানুয়ারির ঘটনায় সর্বমহলে চলছে নানা গুঞ্জন, সমালোচনা। একজন মেম্বার হয়ে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপকর্ম করে আসছে।

৩ অক্টোম্বর বিকেলে বন্দরের মদনপুর এলাকার খলিল মেম্বারের বাড়িতে ৩ শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও পুড়িয়ে আহত করার অভিযোগ উঠে মদনপুর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার খলিল ও তার সান্ত্রাসী বাহিনীর উপর। আহতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ পাইকপাড়া এলাকার সালাহউদ্দিনের স্ত্রী মনি বেগম, তার ৭বছরের শিশু সুমি, ৯বছরে শিশু মারুফ ও ৩ বছরের ছেলে মুক্তাদির। এ ব্যাপারে মনি বেগম বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, আহত মনি বেগম একজন ভিক্ষুক। ৩ অক্টোম্বর দুপুরে অসহায় মনি বেগম খলিল মেম্বারদের বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার বাড়িতে দুপুরের খাবারের জন্য আকুতি করে এবং সেখানে সে ৩ সন্তানদের নিয়ে দুপুরের আহার করে। পরে তিনি ভিক্ষার উদ্দেশ্যে মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড এর সামনে পৌছালে অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক তাদের চোর আখ্যা দিয়ে মেম্বাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে একটি আম গাছের সাথে বেধে মনিকে রড দিয়ে পিটিয়ে মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যর্থ স্বীকারোক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। পরে খলিল মেম্বার বাড়িতে এসে মনি বেগমকে একটি কক্ষে নিয়ে বলেন, ‘আমি তো মেম্বার তাই আমার বাড়িতে চুরি হওয়াটা অসম্মানের। তোমাকে বরং ৫ হাজার টাকা দেই তুমি মোবাইল ফেরত দিয়ে দাও` প্রতুত্তরে মনি বেগম বলেন, আমি মোবাইল চুরির সাথে জড়িত নই। এরপর শুরু হয় মেম্বার বাহিনীর নির্যাতন।

মনি বেগম জানায়, চুরির ব্যাপারটি অস্বীকার করার পরপরই শুরু হয় তাদের উপর মধ্যযুগীয় নির্য়াতন। মনিকে ঘরে আটকে রেখে তার ৭ ও ৯ বছরের ২ সন্তানকে লাঠিসোটা দিয়ে পেটাতে থাকে, একপর্যায় মেম্বার বাহিনীর সদস্যরা লোহার গরম খুন্তি দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে দেয়। ছাড় পায়নি তার ৩ বছরে ছোট্ট শিশু সন্তান মুক্তাদির । মুক্তাদিরকে তার মায়ের সামনে গলা চেপে ধরেও চুরির ব্যাপারটি স্বীকারের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় তারা। পরিশেষে ইয়াবা দিয়ে মামলা ও ধর্ষণের ভয় দেখিয়ে আরো একধাপ চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধান চান মেম্বার খলিল। কৌশলে তারা পালিয়ে এসে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। ২০১৬ সাল থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠে খলিল।

এক সময়ের সন্ত্রাসী জনপদখ্যাত বন্দরের উত্তরাঞ্চল তথা মদনপুরে খলিল বাহিনীর উত্থানের পর পুনরায় আতংকের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। কামু ও সুরত আলী বাহিনীর অবসান হলেও নব্যগডফাদার রুপে নিজেকে জাহির করতে বেপোরয়া হয়ে উঠেছে খলিল মেম্বার।

জানা গেছে, ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মদনপুরে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে খলিল মেম্বারের মাদক সেন্ডিকেটের নূর নবী ও রিফাত নামের ২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে খলিল মেম্বারের সহযোগীর পুলিশকে ঘিরে রাখে। তারা আটক দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের উপর হামলা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। হামলাকারীরা পুলিশের কাছ থেকে শটগান ও ওয়ারলেছ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সেদিনের সংঘর্ষে আশিকুর রহমানের একজন গার্মেন্ট শ্রমিক মারা যান। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

মদনপুর ইউপি মেম্বার খলিলুর রহমান খলিলকে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ সালাম ও এক সময়ের ত্রাস বিএনপি নেতা কাবিল ওরফে কাবিলা শেল্টার দিয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এম এ সালাম চেয়ারম্যান হওয়ার পর মদনপুর ইউনিয়ন তার নিয়ন্ত্রণে নিতে খলিল মেম্বারকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর