rabbhaban

তীব্র পানি সংকটে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার
তীব্র পানি সংকটে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বিভিন্ন এলকায় ওয়াসার তীব্র পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পানির সংকটের ফলে ওয়াসা কর্র্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি দিয়ে পানি সরবরাহ করলেও তা অপ্রতুল হওয়ার দরুণ প্রতিদিন পানি যুদ্ধ দেখা দিচ্ছে। এতে করে পানির দুর্ভোগে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠছে। আর অচিরেই এই সংকটে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিচ্ছে।

১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বন্দর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ওয়াসার পানির তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। উপজেলার ছালেহনগর এলাকা, বাবু পাড়া, সোনাকান্দা সহ আরো বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানাগেছে। দীর্ঘ প্রায় ১ মাস যাবত এই পানি সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করেছে। যেকারণে ওয়াসার গাড়ি দিয়ে প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

 স্থানীয় সূত্র জানাগেছে, প্রায় এক মাস যাবত বন্দরের ওয়াসার তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে এই সংকট এতোটই প্রকট হয়েছে যে, এখন পানি একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। এর ফলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গাড়ি দিয়ে দিনে একবার পানি সরবরাহ করে থাকে বন্দরের বিভিন্ন এলাকায়। তবে সেই পানি সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ার দরুণ ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পানি সংগ্রহ করতে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তবে এই হুড়োহুড়ি এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পানি নিয়ে লড়াই শুরু হয়ে যায়। যেকারণে প্রায়ই নানা অঘটন ঘটছে।

জানা গেছে, ‘বিগত বছরগুলোর মত এ বছরও পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ার কারণে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। যেকারণে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ গ্রহকদের চাহিদা মোতাবেক পানি সরবরাহ করতে পারছেনা। এর ফলে ওয়াসার গাড়ি দিয়ে প্রত্যেক এলাকায় পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে। এতে করে পানির দুর্ভোগ কোন ভাবেই লাঘব করা সম্ভব হচ্ছেনা।’

বন্দরে পানি সংকট নতুন কিছু না। বিগত বছরগুলোতেও দফায় দফায় ওয়াসার পানি সংকট দেখা দেয়। দীর্ঘদিনের এসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বন্দরের প্রত্যেকটি এলাকায় ওয়াসার পৃথক পৃথক পানির পাম্প স্থাপনের দাবি ছিল তাদের। কিন্তু সেসব দাবির কোনটিই পূরণ হয়নি। যদিও মধ্যেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এই সংকট অনেকাংশে কমে আসে। তবে আবারো এই পানি সংকট দেখা দিচ্ছে বন্দরের বিভিন্ন এলাকাতে।

ছালেহনগর এলাকার রাহেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল হতেই পানি সংগ্রহ করতে কলসি-বালতি নিয়ে ওয়াসার পানির গাড়ির দিকে ছুটতে হয়। তবে সেখানে যতটুকু পানি দেয়া হয় তা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। একারণে সেখানে প্রতিদিন পানি সংগ্রহণ করতে দিয়ে সবাইকে লড়াই করতে হয়। এ নিয়ে নানা বাকবিতন্ডা সহ ঝগড়া-লড়াইয়ে ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু পানি সংকট কিছুতেই মিটছেনা। এই সংকট স্থায়ীভাবে সমাধা করতে হলে এই এলাকায় ওয়াসার পাম্প স্থাপন করতে হবে যা আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু এই দাবি এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছেনা।

পাশের বাবুপাড়া এলাকার রেহেনা আক্তার জানান, এখানে দীর্ঘদিন যাবত ওয়াসার পানির স্বাভাবিক সরবরাহ নেই। তবে সম্প্রতি পানি সংকট আরো তীব্র হয়েছে। তাই প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে ওয়াসার গাড়ির দিকে ছুটতে হয়। আর তাতেও চাহিদা পূরণ না হলে অন্যত্র থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।

সোনাকান্দা এলাকার সোলেয়মান মিয়া বলেন, কিছুদিন পর পর ওয়াসার পানির সংকট দেখা দেয়। এভাবে আর কতদিন চলা যায়। আমরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে চাই। এখন তো পানি সংকটের কারণে একবার ছুটতে হয় ওয়াসার গাড়ির দিকে। সামান্য পানিতে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় ফের ছুটতে হয় বিকল্প কোন উৎসের দিকে। এভাবে জীবন অনেকটা বিষিয়ে উঠেছে।

বন্দরবাসীর দাবি, ‘কিছুদিন পরপর ওয়াসার পানি সংকট দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ইতোমধ্যে এলাকা ভিত্তিক পৃথক পৃথক ওয়াসার পাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। কিন্তু সেই দাবি আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। যেকারণে এই সংকট কিছুদিন পরপর বন্দরবাসীর ঘাড়ে চেপে বসছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আন্দোলনের সংগ্রাম করা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় থাকবেনা।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর