rabbhaban

শিবু মার্কেট থেকে আইইটি স্কুল ড্রেন ছাড়াই সড়ক


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ১০ মে ২০১৯, শুক্রবার
শিবু মার্কেট থেকে আইইটি স্কুল ড্রেন ছাড়াই সড়ক

নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট থেকে আইইটি স্কুল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে ড্রেন ছাড়া। এই সড়কটি দীর্ঘদিন ভাঙ্গাচোড়া থাকার পর এই সংস্কার অনেকের কাছে আশার সঞ্চার করলেও ড্রেন নির্মাণ না করায় বিষাদে পরিণত হচ্ছে।

এর আগে বৃষ্টি হলেই এই সড়কে পানি উঠে যেত। পানি জমে থাকায় সড়কটি বার বার সংস্কার করেও বেশি দিন স্থায়ী করা যেত না। এজন্য সড়কটি কার্পেটিং এর বদলে আরসিসি করার উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু তাতেও লেজে গোবরে অবস্থা। ড্রেন করার জায়গাটুকু তারা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই অবস্থা সম্পূর্ণ সড়ক জুড়ে।

সারা দেশের অভিজ্ঞতা এবং নিয়মকে মাথায় নিয়ে পিচ এর রাস্তার পরিবর্তে আরসিসি রাস্তা তৈরীর কাজে এগুচ্ছে। ওয়ার্ডে, মহল্লায়, ইউনিয়ন পরিষদের সড়কসহ প্রায় বেশির ভাগ সড়ক এখন আরসিসি হচ্ছে। আর এসব সড়কের পাশ দিয়ে ড্রেন তৈরী করা হয় অথবা ড্রেন করার জায়গা রাখা হয়। যাতে পরে সেই ড্রেন তৈরী করা যায়। অথচ শিবু মার্কেট-আইইটি স্কুল সড়কটিতে এমন কোন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। আরসিসি সড়ক তৈরীর পর সড়কের দুই পাশের খালি জায়গাটুকু ইটের সলিং করে দেয়া হচ্ছে। এই সড়কটিতে ড্রেনের কোন ব্যবস্থাই রাখা হয়নি।

সামনের বৃষ্টির দিন আসছে আবার অন্যদিকে সড়কটি উচুঁ হওয়ায় আশপাশের বাড়িগুলো উচুঁ করা হচ্ছে। সামনে দেখা যাবে এসব বাড়ির পানি সড়কে এনে ফেলা হয়। তখন সড়কের পানি যেতে না পেরে সড়কে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। এই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করে খুব বেশি পরিমানে। তখন অল্পতেই সড়কের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আর মানুষের দুর্ভোগতো রয়েছেই। পায়ে হেটে তখন আর চলার উযুক্ততা থাকে না।

আমিন মিয়া বলেন, এই সড়কের মূল সমস্যা হচ্ছে বৃষ্টির পানি। একটু বৃষ্টি হলেই এই সড়কে পানি জমে যায়। তখন ভারী যানবাহন চলাচলে অল্পতেই সড়ক ভেঙ্গে যায়। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। তখন আর এই সড়কে চলাচলের কোন জো থাকে না। অথচ এই সড়কটি খুবুই ব্যাস্ততম একটি সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। অনেক কলকারখানা এই সড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে। শ্রমিক, শিক্ষার্থীরা চলাচল করতে অনেক বেশি দুর্ভোগে পড়ে।

স্কুল শিক্ষক মো: রহিমুর রহমান বলেন, পথচারী কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যারা নিজস্ব গাড়ী বা অন্যান্য গাড়িতে চলাচল করেন তারা পথের খারাপ অবস্থা ওইভাবে বুঝতে পারেন না। যারা পায়ে হেঁটে চলাচল করেন তারা বুঝেন কতটা কষ্টের এই সড়কটি। পানি জমে গেলে সেই রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলা অসম্ভব হয়ে উঠে। যারা অর্থের অভাবে রিক্সা বা অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারেন না। তারা কাঁদা-জলে হাঁটতে গিয়ে পড়েন মহা সমস্যায়। গাড়ি চলাচলে যেমন কাঁদা জল ছিটে আসে ঠিক তেমনি পানি গড়িয়ে উঠি যায় উপরের দিকে। গর্তে পড়ে গেলেতো কোন কথাই নাই। জামা-কাপড় নিয়ে আর অন্য কোথাও যাওয়ার অবস্থা থাকে না। এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি পড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং শ্রমিকেরা। সড়কে জমে থাকা এসব পানিও না কাঁদাও বলা যাবে না। এসব হচ্ছে গাঁদ। যা কাপড়ে লাগলে উঠে না। শরীরে লাগলে চর্মরোগ হয়।

তিনি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, বড় লোক বা যারা সড়কের ডিজাইন করেন তারাতো পায়ে হাটেন না তাই তাঁরা বিষয়টি ঐভাবে বুঝবেন না। তাই ড্রেনের গুরুত্ব টের পান না।

এই শিক্ষক বলেন, ড্রেন ছাড়া এই সড়ক ব্যবহারের উপযুক্ততা হারাবে কম সময়ে। তখন আর ব্যবস্থা নেয়ার কোন উপায় পাবে না কর্তৃপক্ষ। চাইলে তখন ড্রেন নির্মান বা সড়ক থেকে পানি নামাতে পারবে না তাঁরা। তার মানে সমস্যা থেকেই গেল।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর