rabbhaban

মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ৫ জনের জেল


সোনারগাঁ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:২৫ পিএম, ১৫ মে ২০১৯, বুধবার
মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ৫ জনের জেল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ইজারা ছাড়াই রাতের আধারে চুরি করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ৫ জনকে এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।

১৫ মে বুধবার সকালে সোনারগাঁও থানা পুলিশ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় মো. শাকিল. রুহুল আমিন, রবিউল ইসলাম, আনোয়ার, হাফিজ নামের ৫জনকে আটক করে। পরে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার প্রত্যেককে এক বছরের বিনা শ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

জানা যায়, সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীর হাড়িয়া, গোবিন্দি, সোনামুই, নুনেরটেক আনন্দবাজার এলাকায় ইজারা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন তার ছেলে রকি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত, বিএনপি নেতা তাওলাদ ও যুবলীগ নেতা নজরুল, নুনেরটেক গ্রামের আবুল হাসেম একটি সিন্ডিকেট করে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু উত্তোলনকারীদের দাপটে অনেকটা কোনটাসা হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসনও।

প্রতিদিন ৩০-৩৫টি শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীরবর্তী স্থান ও কৃষিজমি কাছ থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। মেঘনা নদীর অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদী বেষ্টিত অনেক গ্রাম এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে। কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর নুনেরটেক ও এর তীরবর্তী বালু মহালটির ইজারার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ স্থগিতাদেশের ফলে ওই এলাকার বালু মহাল ইজারা দিতে পারবে না প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে প্রতিদিন রাতে ও দিনে মেঘনা নদীর হাড়িয়া, সোনামুই, নুনেরটেক এলাকায় চুরি করে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু উত্তোলনকারীরা।

বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে উপজেলার খাসেরচর, ভুরভুড়িয়া, ভাটিবন্দর ও সুলতান নগর গ্রাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে, মালিগাঁও, হাড়িয়া, গোবিন্দি হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া সোনামুইসহ কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য রোবায়েত হোসেন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত বৈদ্যোরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, মেঘনা নদী থেকে তিনি বালু উত্তোলন করেন না। তিনিও এ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলনের সময় ৫ জনকে আটক করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর