rabbhaban

ঘাতক বন্ধুদের লোমহর্ষক বর্ণনা : ফেসবুকে মিলল বেওয়ারিশ লাশের পরিচয়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
ঘাতক বন্ধুদের লোমহর্ষক বর্ণনা : ফেসবুকে মিলল বেওয়ারিশ লাশের পরিচয়

ভারতের সনি আর্ট টিভি চ্যানেলে দেখানো ‘ক্রাইম পেট্রল’ সিরিয়ালের মতোই গত মে মাসে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে সংঘটিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড।

৯ বন্ধু একসাথে বেড়াতে এসে এক বন্ধুকে হত্যার পর ঝিলে ফেলে চলে যায়। পুলিশ নিহতের মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ৪ মাস পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম ফেসবুকের কল্যাণে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন। কাকতালীয়ভাবে ধরা পরে ৪ খুনী বন্ধু। তারা হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আলাদতে খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করেন। উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ১৯ নং সেক্টরের রঘুরামপুর ঝিলে ঘটে এই ঘটনা।

ভোলাব পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৩ মে উপজেলার পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের রঘুরামপুর ঝিলে ১৭ বছর বয়সী এক যুবকের মৃতদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি পরিচয় সনাক্তের যাবতীয় করনীয় সম্পন্ন করেন।

কিন্তু লাশ উদ্ধারের ৪ দিনেও পরিচয় সনাক্ত না হওয়ায় মুসলিম মৃতদেহের সুবাদে পুলিশ নিজ উদ্যোগে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করেন।

এদিকে পরিচয় সনাক্তে লাশ উদ্ধারের ছবি এসআই শফিকুল ইসলাম তার ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। ঘটনার ৪ মাস পর চলতি সেপ্টেম্বরে ফেসবুকে শেয়ার হওয়া সেই ছবি চোখে পড়ে নিহতের ছোট ভাই তৌহিদুল ইসলাম রবিনের। পরে নিহতের মা হালিমা বেগম ছেলের কাপড় চোপর আর বিকৃত লাশ দেখে নিশ্চিত হন যে এটা তার নিখোঁজ ছেলে তাসিন (১৭)। গত সপ্তাহে তাসিনের মা ভোলাব ফাঁড়িতে এসে জানান উদ্ধার হওয়া লাশটি তার ছেলের।

নিহত যুবক তাসিন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাখরকান্দি এলাকার মাসুদ মাতবরের ছেলে। তারা বর্তমানে রাজধানীর খিলগাও তিলপাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন এবং নিহত তাসিন খিলগাঁও তালতলা এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে চাকুরি করতো। গত ২ মে তাসিন বাড়ী থেকে বের হয়। এরপর তাকে আর খোঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুলিশ নিহতের পরিবারের কাছ থেকে তাসিনের ঘনিষ্ট কয়েকজন বন্ধুদের নাম সংগ্রহ করে গত সোমবার রাতে খিলগাও তিলপাড়া এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক ইমরানকে আটক করে।

তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায়, গত ২ মে তারা ৯ বন্ধু পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের রঘুরামপুর এলাকায় ঘুরতে এসে ঝিলে গোসলে নামে। এসময় তাসিন সাতার না জানায় ডুবে মারা যায়।

তার কথা সন্দেহজনক হওয়ায় তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ শাওন, আব্বাস ও শামীম নামে আরো ৩জনকে আটক করে। তারাও পুলিশকে একই ধরনের জবানবন্দি প্রদান করেন।

কিন্তু মঙ্গলবার আসা ময়নাতদন্তে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে লাশের পেটে পানির আলামত না থাকায় পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাদের এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে এক পর্যায়ে এক এক করে প্রত্যেকে স্বীকার করে পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই তাসিনকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে ইমরান। অন্যান্যাদের যোগসাজসে গত ২ মে পূর্বাচলে এনে তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝিলের পানিতে ফেলে রেখে যায়। ৪ জন ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর