rabbhaban

সন্তান হত্যার দায় স্বীকার মায়ের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
সন্তান হত্যার দায় স্বীকার মায়ের

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় নিজের দেড় বছর শিশু পুত্রকে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নিহত শিশুর চাচা জাহিদুজ্জামান খান বাদী হয়ে নিহত শিশুর মানসিক ভারসাম্যহীন মা রোকসানাকে এক মাত্র আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

এদিকে নিজের আড়াই বছরের শিশুকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে শিশুর মা রোকসানা নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালত তার জবানবন্দি গ্রহন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে জেলা কারাগারে প্রেরন করেন।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, রোকসানা আক্তার তার দুই বছরের শিশু পুত্র আশফাক জামান জাহিনকে নিয়ে সোমবার দুপুর ৩টায় ছাদে উঠে। এসময় শিশুটিকে কি কারনে ছাদ থেকে সে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তা কিছুই বলতে পারেনা। তবে সে মানুষিক ভারসাম্যহীন সেটা তার কথাবার্তায় বুঝা যায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর বড় ভাই নুরুজ্জামান ১২ বছর পূর্বে রোকসানা আক্তারকে (২৮) বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক মেয়ে ফাহমিদা জামান অর্পা (১১) দুই ছেলে জারিফ (৩) ও জাহিন (২) জন্ম গ্রহন করেন। বিয়ের পর থেকে রোকসানা আক্তার মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়ীতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন নুরুজ্জামান মারুফ। সোমবার দুপুর ৩টায় নুরুজ্জামান কাজে ছিলেন ওই সময় তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ছোট ছেলে জাহিনকে নিয়ে ছাদে উঠে। এক পর্যায়ে ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে বাসায় চলে যায় রোকসানা। পরে মেয়ে অর্পার কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে নুরুজ্জামান বাসায় এসে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন।

শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান মারুফ জানান, গত পাঁচ বছর আগে পারিবারিক ভাবে একই এলাকার রোকসানা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার স্ত্রী রোকসানা মানষিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বিভিন্নভাবে চিকিৎসা করেও তার অবস্থা কোন উন্নতি হয়নি। এভাবেই চলছিল তাদের অস্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন।

নুরুজ্জামান আরও জানান, সোমবার বিকেলে তার বড় মেয়ে অর্পার ফোন পেয়ে শহরের চাষাড়ায় পপুলার হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী রোকসানা তাদের দেড় বছরের শিশু পুত্র জাহিনকে বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছেন। প্রথমে তাকে স্থানীয় পুলার হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখান থেকে জাহিনকে প্রায় নিথর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, শিশুর মায়ের বিরুদ্ধে শিশুর চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। আর গ্রেপ্তারকৃত শিশুর মা রোকসানা মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করার দায় স্বীকার করে  ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

ওসি আসলাম হোসেন আরো জানান, যদিও নিহত শিশুটির মা মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ রোগী। নিজের অজান্তেই হয়তো তিনি এ কাজটি করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সেটা দাবি করা হচ্ছে। স্বজ্ঞানে কখনো একজন মা এই কাজ করতে পারেন না। তবে আইনের কাছে সব অপরাধীই সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর