rabbhaban

আটকের পর ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি


রূপগঞ্জ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৪৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার
আটকের পর ব্যবসায়ীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিনা অপরাধে এক নিরীহ ব্যবসায়ীকে আটকের পর দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ীকে ১শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয় ওই এএসআই। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিরীহ ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশের হ্যান্ডকাপ হাতে নিয়ে ঘুরছেন পুলিশের বিশেষ সোর্স। ওই সোর্সের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ। 

২০ অক্টোবর রোববার দুপুরে উপজেলার সাওঘাট এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানান, সাওঘাট এলাকার আলী আশরাফের ছেলে জসিম। তিনি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। ড্রাগ লাইসেন্স হাতে আসলেই পাইকারী ওষুধের ব্যবসা শুরু করবেন জসিম। দুপুর ১টার দিকে নিজ বাড়িতে বাবা আলী আশরাফ ও স্ত্রী খাদিজা বেগমকে সাথে নিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন। এসময় রূপগঞ্জ থানার এসএসআই মিজান সহ বেশ কয়েকজন পুলিশের পোশাক ছাড়াই ঘরে প্রবেশ করে। পরে পুলিশের সোর্স রাব্বির হাতে থাকা হ্যান্ডকাপ জসিমের হাতে পড়িয়ে সিএনজিতে উঠিয়ে নেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে জসিমের বাবা আলী আশরাফকেও হ্যান্ডকাপ পড়ানোর চেষ্টা চালায়। পরে সিএনজিতে উঠিয়ে কর্ণগোপ এলাকার একটি সিএনজি পাম্পে নিয়ে গিয়ে জসিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী খাদিজাকে আসতে বলা হয়। পরে খাদিজা ওই সিএনজি পাম্পে আসলে তার কাছে এএসআই মিজান ও সোর্স রাব্বি দুই লাখ টাকা দাবি করে।

এসময় পরিবারের লোকজন জসিমের কি অপরাধ জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে এএসআই মিজান ও সোর্স রাব্বিসহ পুলিশ কোন উত্তর না দিয়ে জানায়, দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেয়া হলে জসিমকে ১’শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মামলা দিয়ে দেয়া হবে।

ওই স্পটে জসিমের স্বজন সহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তখন এএসআই মিজান বলেন, টাকা খরচ করে রূপগঞ্জ থানায় যোগদান করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে টাকা দিতে হয়, তাই কিছু অন্যায় কাজ করতে হয়। এদিকে, দুই লাখ টাকা না দিলে ১’শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মামলা দেয়ার হুমকির বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিরীহ ও সাধারন মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, এএসআই মিজানসহ বেশ কয়েকজন এসআই ও এএসআই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তারা মাদক ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিরীহ  ও সাধারন মানুষকে আটকের পর জিম্মি করে টাকা আদায় করে নিচ্ছে। এ ধরনের কয়েকজন পুলিশের জন্য পুরো পুলিশ দপ্তরের দুর্নাম হচ্ছে। এ ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্যবসায়ী জসিম থানা হাজতে আটক ছিলেন।

আটক জসিমের স্ত্রী খাদিজা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, দেড় শতাংশ জমি কিনে একটি বাড়ি নির্মাণ করে কোন রকম সংসার চালিয়ে আসছি। বিনা অপরাধে ধরে দুই লাখ টাকা দাবি করছে। আমি এতো টাকা দিবো কত থেকে।

অভিযুক্ত রূপগঞ্জ থানার এএসআই মিজান বলেন, ‘‘ভাই এই বিষয়টি নিয়ে আপনারা আর ঘাটাঘাটি কইরেননা। আর লেইখেইন্না।’’

রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, বিষয়টি ওসি সাহেব দেখবেন। আমি কিছু বলতে পারবো না।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানী করা হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর