মানববন্ধন করায় ২ জনকে কোপানোর অভিযোগ মীরু বাহিনীর বিরুদ্ধে


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
মানববন্ধন করায় ২ জনকে কোপানোর অভিযোগ মীরু বাহিনীর বিরুদ্ধে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুরে দুই গ্রুপের প্রভাব বিস্তারের জেরে দুই জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মীরু বাহিনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে পাগলা এলাকায় ফেরার পথে এদিন সন্ধ্যায় চাঁদ সেলিম বাহিনীর দুইজনকে কোপানো হয়।

আহত তানভির ও নাঈমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তানভিরের কপালে কোপ লেগেছে। দুজনের অবস্থাই গুরুতর বলে দাবী করেন চাঁদ সেলিম।

তিনি জানান, পাগলা এলাকায় সন্ত্রাসী মীর হোসেন মীরু ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার এবং তার আস্তানা উচ্ছেদের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে কুতুবপুরের ভুক্তভোগি। মীরু ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের তালিকাভূক্ত দশ নম্বর সন্ত্রাসী। পাগলা কুতুবপুরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধন থেকে মীর হোসেন মীরু ও তার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা করেন ভুক্তভোগিরা।

মানববন্ধন শেষে ট্রেনে পাগলা ফেরার পথে চাষাঢ়া রেলষ্টেশনে আসলে মীরুর ভাগিনা শাকিল তার সহযোগী গেন্দু ও ভিপি রাজিবসহ ১৫/২০ ধারালো ছুরি, লাঠি নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তানভিরের কপালে কোপ দিলে সে মাটিতে লুটে পড়ে। এরপর নাঈমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে তারা চলে যায়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় তাদের দুজনকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

মীর হোসেন মীরু এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদ সেলিমের লোকজন নিজেরাই মারামারি করে ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিতে আমার ও আমার ভাগিনা শাকিলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার চেষ্টা করছে। আমি পঙ্গু দুটি পা অচল ঘর থেবে বের হতে পারিনা। আমার ভাগিনা কলকাতা জন্ডিসের চিকিৎসা করতে দুদিন আগে গিয়েছে। আমি ন্যায় বিচারের জন্য এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। থানার ভেতরে মারধরের শিকার ব্যবসায়ী সিকদার সেলিম বাদী হয়ে ১৭ নভেম্বর বিকেলে ওই মামলাটি দায়ের করেন। এতে মীর সোহেলে সহযোগী শাহীন সহ অজ্ঞাত আরো ৮ থেকে ১০জনকে আসামি করা হয়।

ভুক্তভোগী হলেন ফতুল্লা থানাধীন পাগলা বউবাজার এলাকার আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে চাঁদ শিকদার সেলিম। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি পোশাক কারখানার মুজদকৃত পণ্যের ব্যবসায়ী।

অভিযোগ সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুরের মীর হোসেন মীরুর বাহিনী কুতুবপুর ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় মুরাদ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই মুরাদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেন এবং পরদিন শুক্রবার রাতে তাদেরকে থানায় যেতে বলেন।

মুরদারে ভাই সিকদার সেলিম জানান, বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এসআই মিজান ঘটনাস্থলে আসেন এবং পরদিন (শুক্রবার) রাতে আমাকে থানায় আসতে বলেন। সে মোতাবেক আমি থানায় প্রবেশ করছিলাম এমন সময় থানা থেকে বের হয়ে আসছিলেন মীর সোহেল আলী, শাহীনসহ আরও বেশ কয়েকজন। তখন মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন থানার ভেতরই আমার উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আমাকে মারতে মারতে থানা থেকে রাস্তার নিয়ে আসে। আবার এখান থেকে টেনে ওসি তদন্তের রুমে নিয়ে যায় আমাকে লকআপে ঢুকিয়ে দিবে বলে।

তিনি আরও বলেন, ওসি তদন্তের রুমে নেওয়ার পর তিনি আমাকে উল্টো ধমকাচ্ছিলেন আর বলছিলেন ‘থানায় আপনার কাজ কি, কেন এসেছেন!’ এভাবে থানার ভেতরই যদি আমাদের উপর হামলা করে তাহলে বাইরে আমাদের নিরাপত্তা কতটুকু এবার বুঝে নেন।

সেলিম আরও বলেন, এর আগে মীর হোসেন মীরুর বিরুদ্ধে আমি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে আমাকে পেয়ে মীর সোহেল আলী ও তার লোকজন আমাকে থানার ভেতরে এলোপাথাড়ি মারধর ও হামলা চালায়।

নির্যাতনের শিকার ব্যবসায়ী সেলিম বাদী হয়ে রোববার বিকেলে মীর সোহেল ও তার সহযোগী শাহীন মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে মীর সোহেল আলী বলেন, সেলিমকে থানার বাইরে গেটের সামনে দেখে আমি তাকে আমার অফিসে আসার কথা বলেছি। যাতে তাদের বিরোধটি নিষ্পত্তি করা যায়। কারণ সে এলাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির পরিচয় দিয়ে চলে। আওয়ামীলীগের কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে এতে দলের জন্যই খারাপ হয়। তাই আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দুই পক্ষকেই আমার অফিসে ডেকেছি মিমাংসার জন্য। তাকে মারধরের প্রশ্নই উঠেনা। এছাড়াও এদিন বিকেলে বিষয়টি মিমাংসার জন্য ফতুল্লা থানার তদন্ত কর্মকর্তার আমাকে থানায় থাকতে বলেছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর