৫ দিনেও সোনারগাঁও ওসির দেখা পাননি ষাটোর্ধ্ব আছিয়া খাতুন


সোনারগাঁ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
৫ দিনেও সোনারগাঁও ওসির দেখা পাননি ষাটোর্ধ্ব আছিয়া খাতুন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামানের ৫ দিনেরও দেখা পাননি ষাটোর্ধ্ব আছিয়া খাতুন নামের ভুক্তভোগী একজন নারী। কাঁচপুর কুতুবপুর গ্রামের দেবরের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ওসির সহযোগিতা চাইতে এসে তিনি এ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বিভিন্ন তারিখে ৫দিন সোনারগাঁ থানার বাইরে বসে থেকে তাকে ফেরত যেতে হয়েছে।

থানার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলরা তাকে ভেতরে যেতে বাধা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী আছিয়া খাতুনের অভিযোগ।

৭ ডিসেম্বর শনিবারও সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত থানায় অপেক্ষমান ঘরে ওসির দেখার অপেক্ষা করে কারো পরামর্শে সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের ধারস্থ হয়েছেন।

ভুক্তভোগী আছিয়া খাতুন জানান, কাঁচপুর কুতুবপুর গ্রামের মিয়া চাঁন সরদারের ছেলে নূর হোসেনের সাথে ৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধে চলছে। এ বিরোধের জের ধরে ২০ মে তাকে পিটিয়ে একটি হাত ভেঙ্গে দেয়।এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে। ওসি মনিরুজ্জামান এ মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন।

আমিনুল ইসলাম দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে আছিয়া খাতুনের টাকা তদন্ত প্রতিবেদন ও ডাক্তারী প্রতিবেদনের জন্য টাকা দাবি করেন। আছিয়া খাতুন আমিনুল ইসলামকে ৩ হাজার টাকাও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। জমি সংক্রান্ত কেস বড় বলে টাকা দাবি করেন এসআই আমিনুল ইসলাম।

তিনি আরো জানিয়েছেন, এসআই আমিনুল আসামী নুর হোসেনের এক সঙ্গে হাসাহাসি করে কথা বলতে দেখেছেন। তার ভাষ্য আসামী নূর হোসেনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার পক্ষ নিয়ে আছিয়া খাতুনকে হয়রানী করছে এসআই আমিনুল ইসলাম।

আছিয়া খাতুন জানান, নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা করার পর একবার ওসি কাছে দেখা করেছিলেন। ওই সময়েও ওসি সমস্যার তেমন সমাধান দিতে পারেননি। ওসি আদালতে ওকিলের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে চলে যেতে বলেছেন।

সম্প্রতি আসামী নূর হোসেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমরের সঙ্গে উঠাবসার কারনে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিরোধকৃত জমিতে দোকানঘর ভাংচুর করে ওই জায়গায় কবুতরের ঘর নির্মাণ করেছে। এছাড়াও আছিয়া খাতুনের কর্মজীবি তিন ছেলেকে মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়। এ থেকে ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ওসির ধারস্থ হয়েছেন। ৫ দিন সোনারগাঁ থানার ওসির সাথে দেখা করতে কনস্টেবলরা বাঁধা দিয়েছেন।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই মহিলার অভিযোগ সত্য নয়। আদালতে তার দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তাছাড়া তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করতে হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন কেউ করে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। সেবা পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। ওই মহিলাকে থাকায় যেতে বলেন আমি বলে দিচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর