ইউএনওকে বিতর্কিত করতে প্রভাবশালীর কারসাজি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২০, সোমবার
ইউএনওকে বিতর্কিত করতে প্রভাবশালীর কারসাজি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুল ইসলামে বিতর্কিত করতে প্রভাবশালী একজনের অনুগামী মূলত কারসাজি করেছিলেন। শেষতক ইউএনও’র তদন্তে সেটা ফাঁসও হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম আলামিন। তিনি সোনারগাঁয়ে ইসলামি ফাউন্ডেশনে কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে সম্প্রদি সোনারগাঁয় মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি বরাদ্দের টাকা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ উঠানো হয় ইউএনও বিরুদ্ধে। ওই উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তালিকাভুক্ত ৫৯৭টি মসজিদ রয়েছে। যার মধ্যে ৮২টি মসজিদের নামে ডাবল চেক ইস্যু করেন ইউএনও সাইদুল ইসলাম।

এ নিয়ে স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, উপজেলার যে মসজিদগুলোর তালিকা করা হয়েছে তার বাইরেও আরও অনেক মসজিদ রয়েছে। আর ৮২টি মসজিদের নামে ডাবল চেক ইস্যুর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ভুল হলে একটি-দুটির ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে। এ ছাড়া ইউএনওর বিরুদ্ধে উত্থাপিত আরও কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখতে দুদক ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউএনও এ ব্যাপারে তার ফেসবুক পেজে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘ঈদুল ফিতর এর আগে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সোনারগাঁ উপজেলায় ৫৯৭টি মসজিদের সম্মানিত ঈমাম মুয়াজ্জিনগনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ প্রদান করেন। এখানে লক্ষনীয় বিষয় এই যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনারগাঁও শাখা আমাকে না জানিয়েই তালিকাটি জেলাতে প্রেরন করে। এটি কেনো করেছে আমার বোধগম্য না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী চেক প্রস্তুত করার জন্য আমি নিজে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা প্রদান করি। প্রস্তুতচেক স্বাক্ষরের সময় আমার কাছে কিছু অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে যেমন মোট ৮২ টি মসজিদের নাম দুইবার করে দেয়া হয়েছে। সাথে সাথে আমি সেই চেকগুলি নিজের হাতে লাল কালিতে লিখে বাতিল করি। এবং ওই চার লাখ ১০ হাজার টাকা বাদপড়া মসজিদে বরাদ্দ প্রদানের নির্দেশনা দেই। মসজিদের নাম সংগ্রহ করতে এই পেজে একটি স্ট্যাটাসও দেই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে সাবেক সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়, আওয়ামীলীগের বর্ষীয়ান অনেক রাজনীতিবিদের মসজিদের নাম সহ ঐতিহ্যবাহী অনেক মসজিদের নাম কে বা কারা কৌশলে বাদ দেয়।

পরে বিস্তারিত তদন্ত করে জানতে পারি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আল আমিন নামের একজন ফ্লিড সুপারভাইজার কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এবং আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের কাছে বিতর্কিত করার জন্য দূরভিসন্ধিমূলকভাবে এই কাজটি করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রনালয়ে একটি প্রতিবেদন দেই।

প্রসঙ্গত সোনারগাঁও আসনের জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার সঙ্গে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের সঙ্গে কিছুদিন ধরেই নানা ইস্যুতে ভেতরগত বিরোধ চলে আসছিল। ক্রমশ সেটা দৃশ্যমানও হচ্ছিল। ওই সময়ে খোকা সমর্থিত লোকজন এ পরিশ্রমী ইউএনও এর বিরুদ্ধেও নানা ধরনের প্রপাগান্ডা, নানা ধরনের মিথ্যে অভিযোগও তুলছিলেন। চেষ্টা করছিলেন কলঙ্কের তিলক এটে দিতে। এ অবস্থায় যখন সোনারগাঁয়ে বিষয়টি বেশ আলোচিত তখন দুইজনকে দেখা গেছে এক মঞ্চে পাশাপাশি টেবিলে।

একটি অনুষ্ঠানে যেখন দুইজন বক্তব্য দেন তখন এমপি ও ইউএনও এর বক্তব্যে উঠে আসে সৌহার্দ্যরে কথা। কিন্তু দুইজন বার বার এও বলছিলেন আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ ছিল না। কখনোই বিরোধ ছিল না। হয়তো চলার পথে ভুল থাকতে পারে।

এমপি খোকা ও ইউএনও এর বক্তব্যে স্থানীয়রা বলছেন, দুইজনের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরেই নানা ধরনের মনস্তাত্বিক লড়াই চলে আসছিল। ক্রমশ খোকার লোকজন আক্রমণও হয়ে উঠেন। কিন্তু শেষতক খোকার প্রশংসার পরেই কেটে যায় দৃশ্যমান সেই বিরোধ।

১০ জুলাই সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী নারায়ণগঞ্জের যুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার আমিনুর রহমান, সাবেক এমপি পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন (কচি বাবু) ও ডা. আজগর আলী সহ গত দুই মাসে সোনারগাঁয়ের যে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রোগে ও বার্ধক্যজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এতে স্থানীয় বক্তারা এমপি ও ইউএনওকে একত্রে কাজ করার আহবান রাখেন। কেউ কেউ পরোক্ষভাবে বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সেখানে ইউএনও বক্তব্য দিতে গিয়ে এমপি খোকাকে ‘প্রিয় মানুষ’ আখ্যায়িত করেন। এ শব্দ শুনে বার বার করতালি দেন উপস্থিতিরা। তাছাড়া ইউএনও’র বক্তব্যে বার বার উঠে আসে খোকার গুণকীর্তন।

পরে এমপি খোকা বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আমার সঙ্গে কারো কোন বিরোধ নাই। হয়তো চলার পথে ভুল থাকতে পারে। সেটা আলোচনা করলেই শেষ হয়ে যেত। চলার পথে ভুল হলে সেটা আমি আমলে নেই নাই। সেটা আমলে নিলে তো আর মুরুব্বী হতে পারবো না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর