মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই বিতর্কিত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অনেকেই বিতর্কিত

নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতাদের একটি গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে একটি বিশেষ সংস্থা। আর সেখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক নেতার বিরুদ্ধে খুঁজে পেয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। আওয়ামী লীগের ভেতরেও সাংগঠনিক রীতি নীতি বহির্ভূত কাজ সহ নির্বাচনী এলাকাতেও নানা ধরনের নেতিবাচক কাজের উদহারণও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এসব ব্যক্তিদের মনোনয়ন বেশ কঠিন হতে পারে সেটাও নিশ্চিত। কারণ মনোনয়ন চাওয়ার আগেই তাদের নেতিবাচক কর্মকান্ডগুলো ললাটে কলঙ্কের তিলক এটে দিয়েছে।

ওই বিশেষ সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মূলত চারটি পৃথক পন্থায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি করে তাদের ব্যাপারে বিশদ খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিদের অবস্থা, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অবস্থান ও বিগত দিনের কর্মকান্ড, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পরিস্থিতি ও বিএনপির কোন কোন প্রার্থী ফ্যাক্টর হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে।

ওই কর্মকর্তা ও তাদের কয়েকজন মূলত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে ডাটাবেজ তৈরি করেছেন। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ তথ্যাবলী সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছানো হবে।

কর্মকর্তা জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে বন্দরে স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছনা ছাড়া আর বড় ধরনের বাহ্যিক কোন অভিযোগ পায়নি। বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সংগঠনে তাঁর কর্তৃত্ব আছে এমনটা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহার বিরুদ্ধে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের পক্ষে আইনী লড়াই চালানোর বিষয়টি দলের ভেতরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বর্তমান এমপি শামীম ওসমান। মনোনয়ন প্রত্যাশী শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ এখনই এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা বলা হয় রিপোর্টে। কারণ হিসেবে বলা হয়, শ্রমিক রাজনীতির কারছে এক শ্রেণির শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রক তিনি। কিন্তু আপমর জনতার লোক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে আলীগঞ্জ ও পাগলা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এমপি হওয়ার যথার্থ অবস্থান গড়তে পারেনি তিনি।

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও তাদের বিরুদ্ধে আছে নানা অভিযোগ। কায়সার বিগত এমপি থাকার সময়ে বিভিন্ন স্থানে একচ্ছত্র টেন্ডারবাজি, বালু  সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠে। এসব কারণে কায়সারকে ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে সহ একজন সাংবাদিককেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। অপরদিকে কালাম ছিলেন এক সময়ে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের ঘনিষ্টজন। মেঘনায় বালু সন্ত্রাসের কর্মকান্ডেরও অভিযোগ তার ও তার লোকজনদের বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জ-২ তথা আড়াইহাজার আসনে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেনের নাম আছে।

তবে ইকবাল পারভেজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পোক্ত করতে পারছেন মন্তব্য করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইকবাল ইতোমধ্যে দুদকের একটি মামলায় অভিযুক্ত। অপরদিকে বাবু পুরো আড়াইহাজারকে করায়ত্ব করে ফেলেছে। সেখানে ইমেজ ফেরাতে স্বচ্ছ প্রার্থী প্রয়োজন। আর মমতাজ হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিশাল দূরত্ব।

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়ার বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বিষোদাগার, সংগঠনকে দুর্বল করার প্রয়াস, সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ আছে। পক্ষান্তরে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ সম্পর্কে নেতিবাচক তেমন কিছু না থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে মন্তব্য করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর