rabbhaban

১৫বছরে কর্মীদের পদ না দিয়ে বুড়ো বানাল ছাত্রদলের স্বার্থবাদীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৭, শুক্রবার
১৫বছরে কর্মীদের পদ না দিয়ে বুড়ো বানাল ছাত্রদলের স্বার্থবাদীরা

বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার ছাত্রদলের বিভিন্ন থানা উপজেলা ও কলেজ কমিটিগুলো হয়েছিল। তারপর থেকে নারায়ণগঞ্জে এসব ইউনিটগুলোর কমিটি হয়নি। ছাত্রদলের কমিটি না থাকায় এখানকার ছাত্রনেতারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেনি ২০১৪সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরের আন্দোলনগুলোতে।

সাংগঠনিক কোন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছেনা নারায়ণগঞ্জে। প্রায় বারো বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি হলেও ইউনিট কমিটিগুলো না হওয়ার কারনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হতাশ। পদবিহীন রাজনীতি করছেন ছাত্র নেতারা। অনেক ছাত্রনেতা কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করে এখন পদ ছাড়াই বুড়োদের কাতারে চলে গেছেন। অনেকেই বিয়েও করেনি ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে কিন্তু মাথার চুল পেকে বুড়োর হওয়ার দশা তাদের। আহবায়ক কমিটির নেতারাও কর্মীদের হতাশা গোছাতে পারেননি। ফলে নেতাকর্মীরা বলছেন কর্মীদের কাছে কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল।

জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে আহবায়ক ও আনোয়ার সাদাত সায়েম, মাহাবুব রহমান, শাহ ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মনজুর হোসেন, হারুন উর রশিদ মিঠু ও মশিউর রহমান রনিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

একই দিন মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক ও দেলোয়ার হোসেন খোকন, আবুল কাউসার আশা, রশিদুর রহমান রশো, সাহেদ আহমেদ ও শেখ মোহাম্মদ অপুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের  আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

দুটি আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার বছর খানিকের মধ্যেই নেতাদের মধ্যে বিরোধ বিভক্তি সৃষ্টি হয়। কিন্তু শীর্ষ নেতারা নিজেদের স্বার্থের কর্মীদের ব্যবহার করেছেন। কর্মীরা প্রায় যুগ যুগ ধরে রাজনীতি করে আসলেও তাদের পদ দেয়া হয়নি। অনেকেই বুড়োদের কাতারে চলে গেছেন। এখন অন্য সংগঠনে চলে গেলে একমাত্র পরিচয় হবে তিনি সাবেক ছাত্র নেতা। কারণ তার কোন পদ নেই। ১৫ বছর রাজনীতি করেও ছাত্রদলের একটি সদস্য পদ জুটেনি এমন ছাত্রনেতার হাজারো সংখ্যা রয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, মহানগর ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার আগে ছিল শহর ছাত্রদলের কমিটি। কামরুল হাসান রোমেল ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আবুল কাউসার আশা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন আবুল কাউসার আশা, সাধারণ সম্পাদক রশিদুর রহমান রশো ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদ আহমেদ। এসব কমিটিগুলো হয়েছিল ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে। বন্দর ছাত্রদলের রাজনীতিতে ছিলেন নাজমুল হক রানা, হারুন রশিদ লিটন সহ বেশকজন।

তবে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এসব কমিটির সক্রিয়তা  কমে যায়। তারপর থেকে এখানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক দিদার খন্দকার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন।

কিন্তু দিদার খন্দকার ও জাকির হোসেন মহানগর কমিটিতে কোন পদ পাননি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় কবে নাগাদ কমিটি হয়েছিল তার খোঁজ খবর দিতে পারেনি বর্তমান ছাত্র নেতারা। তবে ১৫ বছর আগে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন দেলোয়ার হোসেন খোকন।

তবে সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হতাশা গোছাতে একাই কমিটি গঠন করেছিলেন সজল। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে সেই কমিটি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হয় তার।

একই অবস্থা ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের কমিটিও। ওই সময়ই ছাত্রদলের কমিটিতে এসেছিলেন আক্তার হোসেন খন্দকার, সেলিম ও আলামিন সিদ্দিক। বর্তমানে ফতুল্লায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনি, রাসেল মাহমুদ, শাহজাহান মিয়া, সাগর সিদ্দিকী, ইমন চৌধুরী, আরিফ হোসেন, জাহিদ হোসেন শ্যামল সহ বেশকজন নেতা। যারা একযুগ ধরে ছাত্রদলের রাজনীতি করলেও সংগঠনের একটি পদও পাননি। এখন তারা ছাত্রদলের রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার বয়স হয়েছে কিন্তু ১৫ বছর ছাত্রদলের শ্লোগান দিয়েও পদ পায়নি।

সোনারগাঁও থানা ছাত্রদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন জড়িত আশরাফ মোল্লা, ইকবাল হোসেন ভুইয়া, আবুল কালাম আজাদ, মশিউর রহমান শান্ত, মাজহারুল ইসলাম শোভন সহ বেশকজন ছাত্র নেতা। এছাড়াও ক বছর ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে বিএনপি নেতা আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খায়রুল ইসলাম সজীবকেও। সোনারগাঁয়ের ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে অনেকের বয়স প্রায় ৪০ এর কাছাকাছি। এখানে রয়েছে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশিদ মিঠু গত মাসে তার ছেলের মুসলমানির অনুষ্ঠানও হয়ে গেল। অনেক ছাত্র নেতাদের বয়স হয়েছে ছাত্রদলের রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার। কিন্তু তারা ছাত্রদলের একটি সদস্য পদও পাননি। সোনারগাঁয়েও ১৫ বছর পুর্বে বর্তমানে জেলা যুবদলের সেক্রেটারি শাহআলম মুকুল ছিলেন সভাপতি। পৌরসভা কমিটিও হয়নি একই সময়ের মধ্যে।

একই ঘটনা ঘটেছে আড়াইহাজার ও রুপগঞ্জ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে। ১৫ বছর পুর্বে ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মাহাবুব রহমান। তারা ওই কমিটির পর এখনও জেলা ছাত্রদলের  যুগ্ম আহ্বায়ক। কিন্তু ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন আবদুল কাইয়ু, সালাউদ্দীন দেওয়ান, পারভেজ আহমেদ, রফিকুল ইসলাম সহ বেশকজন ছাত্র নেতা। যাদের ভাগ্যে পদ ঝুটেনি। আড়াইহাজারে মনজুর হোসেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছাড়াও ছাত্রদলের রাজনীতি করে পদ পাননি জাকির মেম্বার, মোবারক হোসেন সহ বেশকজন ছাত্রদলের নেতা। যারা ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের শ্লোগান দিচ্ছেন কিন্তু কমিটির মুখ দেখেননি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর