rabbhaban

কর্মসূচীতে লাপাত্তা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৭ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
কর্মসূচীতে লাপাত্তা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

দেশব্যাপী প্রতিটি জেলা ও মহানগরে ৩ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। কারাগারে আদালত স্থাপন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশব্যাপি নেতাকর্মীদের গনগ্রেফতারের প্রতিবাদে সারাদেশেই কর্মসূচী ঘোষণা করে দলটি।

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ছিল কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর শেষ দিন। পালন হয়নি জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতীকী অনশন। কর্মসূচীর প্রথম দিন ৮ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপির সিনিয়র-সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের  নেতৃত্বে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হলেও পুলিশি বাধায় তা পন্ড হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হয় ৪ জন কর্মী। পুলিশের মারমুখী আচরণের ভয়ে মাঠে দেখা যায়নি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ও তাদের নেতাকর্মীদের। ওই ঘটনায় মামলা হয় ৪০ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

অনশন কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে গত সোমবার ও বুধবার চাষাঢ়া প্রেসক্লাব ও আশেপাশে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কর্মসূচীতে পুলিশের ব্যাপক সক্রিয়তায় দলের কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের গলির আশেপাশে থাকলেও কর্মসূচী পালন করেনি। পুলিশকেও কর্মসূচীকে ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

দলের এসব মামলা ও গ্রেফতার অভিযানের কারণে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করা সম্ভব হচ্ছেনা উলে¬খ করে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কৌশলগত কারণে পরপর দুইটি কর্মসূচী পালন করতে পারিনি। আমরা দ্রুতই নতুন পুরাতন সকল মামলা থেকে জামিন নিয়ে পুনরায় রাজপথে নামবো। পরবর্তীতে সকল কর্মসূচীতে মামলা গ্রেফতার উপেক্ষা করে পূর্ণ শক্তি নিয়ে আমরা রাজপথে নামবো।

হামলা মামলায় উদ্দীপনায় ভাটা পড়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশের গায়েবী মামলায় আগের থেকে দল শক্তিশালী হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর হয়ে সকলে এখন ঐক্যবদ্ধ। আমরা জেলা পর্যায়ে না হলেও ঢাকায় দুইদিনে আড়াইশ জন গ্রেফতার হলেও জন সমাগম ঠেকাতে পারেনি সরকার। তাই আমরা মনে করি কর্মীদের উদ্দীপনায় কোন অংশেই ভাটা পড়েনি।

একই ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা করা হয়েছে সেগুলোর জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনের পরিপেক্ষিতে আজ শুনানী ছিল, আমরা মামলা থেকে জামিন নিয়ে এসেছি। আগামীতে সকল আন্দোলন সহ কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীতে আমাদের নেতাকর্মীরা সরব উপস্থতিতে থাকবে।

দীর্ঘদিন গণমাধ্যমকে কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় থাকার অজুহাত দিয়ে আসা দলটির জেলার নেতারা এবারো মেলে ধরতে পারেনি নিজেদের। উল্টো বিভিন্ন নতুন মামলায় যুক্ত হয়ে একপ্রকার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে কর্মীদের মাঝে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে দাবি করা দলটির আত্ববিশ্বাস যেন দ্রুতই মিইয়ে গেলো।

সম্প্রতি ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিপুল পরিমান জনসমাগম নিয়ে ঢাকার সমাবেশে যোগ দেয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। এসময় দাবি করা হয় জেলার বিএনপির উৎসাহ উদ্দীপনায় পুনজাগরন হয়েছে। এই উদ্দীপনা নিয়ে সরকার পতনের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন গনমাধ্যমে একাধিকবার কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় তারা রয়েছেন বলে জানান। নির্দেশ পাবার পরেও ঘোষণা দিয়েছিলেন পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন তারা। দলীয় কর্মীদের আশার আলো যেন গুড়েবালিতেই পরিণত হল।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর