rabbhaban

ফতুল্লার বিএনপি নেতাদের মামলা নিয়ে অনাগ্রহ


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
ফতুল্লার বিএনপি নেতাদের মামলা নিয়ে অনাগ্রহ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মামলা নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা বলছেন, বিএনপি করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হলেও এগুলো কেউ দেখভাল করছেন না। বরং সভাপতি শাহআলম রয়েছেন দেশের বাইরে। মূলত মামলা থেকে বাঁচতেই তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন মনে করছেন নেতারা।

অপরদিকে থানা কমিটির সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসও এসব ব্যাপারে কোন ভ্রুক্ষেপ করছেন না। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।

জানা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এস আই মো: শফিউল আলম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন, হাজী আ: কাদের ও ইসমাইল হোসেন। তাদের কাছ থেকে ৫টি ককটেল, ১৮ পিছ লোহার রড ও ১৯টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তারা হলো জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আকরাম প্রধান, যুবদল নেতা সরকার আলম, জাহাঙ্গীর আলম, রানা মজিদ, সরদার আলম, আকরাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মো: আনোয়ার হোসেন, তারিকুল ইসলাম তারেক, পরান, জীবন, জাকির, শহীদুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম হাফিজ, মো: মিরাজুল ইসলাম, মো: আসলাম দেওয়ান, রহিম, মো: আক্কাস মিয়া, মো: কামাল, মো: জয়নাল আবেদীন, স. ম শহীদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান শাহীন, মো: সেলিম মিয়া, জাহাঙ্গীর, সেলিম সর্দার, ছানোয়ার হোসেন, আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, উমর আলী, মাইনুল হোসেন রতন, সফি দেওয়ান, মোহাম্মদ হোসেন, সিরাজ মাদবর, সাইদুল মিয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, সৈকত হোসেন, সোহেল আব্দুল্লাহ, শাহীন মুন্সী, হাফিজুল ইসলাম, মো: জাকির হোসেন ও শফিউল সরদার খোকন। অজ্ঞাত আরো ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

আসামীদের বিরুদ্ধে ৮ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা থানার জামতলা ঈদগাহ মাঠের পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর ১০০/১২০জন নেতাকর্মী বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র-সস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্যে সজ্জিত হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ড ঘটানোর উদ্দেশ্য সমবেত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, পাওয়া হাউজ, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ২ জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।

৭ সেপ্টেম্বর ফতুল্লা মডেল থানার এস আই কাজী এনামুল হক বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারী মামুন মাহমুদ, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, মহানগর যুবদলের আহবায়ক ও সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ আকবর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি সহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। মামলায় ৩জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলো দুলাল ভূইয়া, রাজীব হোসেন ও সোহেল মোল্লা। তাদের কাছ থেকে ৪টি ককটেল উদ্ধার, ২২ পিছ লোহার রড ও ১৭টি বাশের লাঠি উদ্ধার করা হয়।

আসামীদের বিরুদ্ধে ৬ সেপ্টেম্বর ভূইগড় এলাকাতে একত্রিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা, রেলপথ উড়ানো, তেলের ডিপোতে হামলার অভিযোগ আনা হয়। ওই ঘটনাস্থল থেকেই ৩জনকে আটকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় মামলায়।

কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মঈনুল হোসেন রতন বলেন, আমাদের সিনিয়র নেতারা আমাদের সঙ্গে ধোকা দিয়েছে। যখনই দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর মামলা হামলা নির্যাতন শুরু হয় তখনই তাদেরকে পাওয়া যায় না। বিএনপির হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহআলম ও সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের নামে কোন মামলা হয় না। কারণ তাদের মধ্যে একজন শাহআলম দেশের বাইরে চলে যায় আর সেক্রেটারী আওয়ামীলীগের লেজুরভিত্তি করে। এখন যখন আবারও মামলা নির্যাতন শুরু হয়েছে তখন শাহআলম সিঙ্গাপুর চলে গেছে। তবে এবার বিএনপির ইতিহাসে প্রথম মামলার আসামী হয়েছেন সেক্রেটারী আজাদ বিশ্বাস।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর