paradise

মনোনয়ন শিকারের টার্গেটে মামলাহীন বিএনপি নেতারা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৬ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
মনোনয়ন শিকারের টার্গেটে মামলাহীন বিএনপি নেতারা

নারায়ণগঞ্জে গত কয়েকদিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেখানে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলেই আসামী করা হয়েছে। আর এতে করে ওইসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও এখন আছেন পলাতক। তাদের কেউ আপাতত মামলার জামিন নিচ্ছে না শুধুমাত্র নতুন মামলার ভয়ে। তাদের শংকা এখন জামিন নিলে আইনের প্রক্রিয়াতে পড়ে যেতে হবে। সে কারণেই আপাতত কেউ জামিন বা আদালতের শরনাপন্ন হচ্ছেন না।

বিপরীতে হেভিওয়েট নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার কারণে বেশ কয়েকজন নেতা এখন নতুন করে মনোনয়নের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, শীর্ষ নেতারা মামলা ও আইনগত ঝামেলার কারণে জটিলতায় বাদ পড়লে কিংবা নির্বাচনে অযোগ্য হলে তারা সেই সুযোগটি নিবে। সে চেষ্টায় এখন তারা মশগুল।

জানা গেছে, গত কোরবানীর ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ১৫টি মামলায় ৯জনকে জ্ঞাত ও অজ্ঞাত আরো ৫শ জনকে আসামী করা হয়েছে। সব ধরনের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি আবুল কালামের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। অথচ তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি। বিপরীতে জেলা কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সবগুলো থানায় মামলা হয়েছে। কালামকে মামলার আসামী না করায় দলের ভেতরে ও বাইরে নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। যদিও কালামের সঙ্গে তারই চাচাতো ভাই আতাউর রহমান মুকুল যিনি মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। বরং সরকার দলের নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্য সমঝোতা করেই দোর্দান্ড দাপট নিয়ে চলছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে এ আসনে মুকুলও এমপি প্রার্থী হতে পারেন।

আড়াইহাজারে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলায় মামলায় কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ সহ অনেককে আসামী করা হলেও সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর রয়েছেন মামলার বাইরে। এক সময়ে আঙ্গুর ছিলেন সংস্কারবাদী নেতা। কিন্তু বিগত দিনে তিনি আর এলাকাতে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। বরং আড়াইহাজারকে গুডবাই দিয়ে তিনি থাকেন রাজধানীতে। হেভিওয়েট নেতারা অযোগ্য হলে আবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন সে আশাতেই আছেন।

সোনারগাঁয়ে ৩টি মামলা হলেও আসামী করা হয়নি সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম ও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। এ দুইজনের কেউ হতে পারেন এমপি প্রার্থী এমনটাও ধারণা করা হচ্ছে। মান্নানের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারী খায়রুল ইসলাম সজীব গ্রেফতার হলেও মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সে জামিন পেয়ে গেছেন। আর এ নিয়ে সন্দেহও বাড়ছে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি মামলা হলেও মামলার তালিকাতে নেই ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি ও জেলা কমিটির সহ সভাপতি শাহআলম। মামলাতে আসামী করা হয়নি কুতুবপুরের চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী মনিরুল আলম সেন্টুকে। এ দুইজন আওয়ামী লীগের জন্যও নিরাপদ।

বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশ জানান, বিএনপিকে যদি কোন কারণে ভাঙানো যায় তাহলে ওইসব নেতারা হতে পারেন ভাঙা অংশের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী। আর সে কারণেই তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কারো কারো সু সম্পর্ক থাকায় আপাতত মামলা থেকে দূরে রয়েছেন। তাদেরকে মামলায় আসামী করা যাচ্ছে না। বিপরীতে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদেরও সু নজরে আছেন তারা। তবে সুনজরে থাকা নেতাদের মধ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস থাকলেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী না থাকার কারণে মামলার আসামী করা হয়েছে।

বিএনপির ওইসব নেতারা জানান, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অনেক নেতাই নানা ধরনের লবিং গ্রুপিং করে চলেছেন। তারা ইতোমধ্যে নিজেদের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিতও করে ফেলেছেন। বিগত দিনে নামমাত্র আন্দোলন আর ফটোসেশন করেও নিজেদের জাহির করেন। এছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে থাকায় তারাও অনেক সময়ে সরকার দলের নেতাদের তোষামেদ, মঞ্চে উঠেও প্রশংসার বক্তব্য রেখেছেন। এতে করে বিএনপির ওইসব নেতারা কার্যত নৌকায় উঠে গেছেন এমন মন্তব্যও এসেছে বিভিন্ন সময়ে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর