rabbhaban

ঢাকামুখী কর্মসূচীতে আশ্রয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
ঢাকামুখী কর্মসূচীতে আশ্রয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

জাতীয় দিবস ব্যতিত নারায়ণগঞ্জের রাস্তা থেকে হারিয়ে গেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। একের পর এক কর্মসূচী ঘোষিত হলেও নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামার সাহস কিংবা সুযোগ কোনটিই পাচ্ছেন না তারা। সারাবছর ক্ষমতাসীন দলের লোকজন মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও বিএনপির কর্মসূচী প্রেসক্লাবের গলিতে আর ঘরোয়া মিটিং এই সীমাবদ্ব হয়ে পড়েছে।

২১ ফেব্রুয়ারি আর ১৬ ডিসেম্বর ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের রাজপথে কখনোই দেখেনি নারায়ণগঞ্জবাসী। আর দলীয় কর্মসূচীতে নারায়ণগঞ্জের চাইতে ঢাকাতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন তারা। ধীরে ধীরে জেলা মহানগর থেকে শুরু করে সকলেই হয়ে পড়ছেন ঢাকামুখী।

দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় থাকা জেলার নেতাকর্মীরা নির্দেশ পাওয়ার পরেও সফল করতে পারেনি কাংখিত কর্মসূচী। আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে পারেনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। নিজেরাই মামলা-গ্রেফতারের ভয়ে চলে গেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। নিজেদের স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের একত্রিত করার চাইতে ঢাকার কর্মসূচীতে যোগদান করাকেই বেশী প্রাধান্য দেন নেতারা। ফলে তৃণমূলের কর্মীদের সাথে দূরত্ব বাড়ছে নেতাদের।

সম্প্রতি ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জেলার নেতারা বিপুল পরিমান নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার রাজপথে শোডাউন করেন। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হিসেবে সর্বাধিক উপস্থিতিতেও এগিয়ে থাকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। এসময় অনেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পুনরুত্থান বলে অভিহিত করেন। নেতারা আশা দিয়েছিলেন এই উদ্দীপনা থেকে নারায়ণগঞ্জের বিএনপিকে আরো শক্তিশালী ও দীপ্তমান করবে। কিন্তু কার্যত কোন কিছুই দেখা যায়নি পরে, বরং আগের মতই লেজ গুটিয়ে আত্মরক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন নেতাকর্মীরা।

গত ৮, ১০ ও ১২ সেপ্টেম্বর ৩ দিনের সারাদেশ ব্যাপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচীতে সাড়া পাওয়া যায়নি জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে। প্রথম দিন মহনগর বিএনপির সিনিয়র-সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান প্রতিবাদ সভা পালন করতে চাইলেও পুলিশি বাধার মুখে তা পন্ড হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার হয় ৪ জন কর্মী। জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়েও পুলিশের অবস্থান দেখে সটকে পড়েন।

বাকি দুই দিন কর্মসূচী পালনে কাউকে মাঠে না দেখা গেলেও ঢাকার প্রোগ্রামের সাথে একাগ্রতা প্রকাশ করে যোগ দেন অনেক নেতারা। স্থানীয় কর্মীদের না জানিয়ে একা একাই কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ফটোসেশন করতে যান অনেকে। এতে করে দুর্বল হয়ে পড়েছে স্থানীয় পর্যায়ের চেইন অব কমান্ড এবং জেলার রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তি। এ ব্যাপারে নেতারা গনমাধ্যমের কাছে হাইকোর্ট থেকে মামলার জামিন নেবার অজুহাত কাজে লাগিয়ে দায় সারছেন।

বিএনপির একাধিক কর্মীরা জানান, নেতারা প্রশাসনের সাথে ও নিজের ক্ষমতাবলে গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বের হতে পারেন। অপরদিকে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা গ্রেফতার হলে তাদের পরিবার প্রায় পথে বসে যায়। মামলা মোকাদ্দমার খরচ এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কারাগারে গেলে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। নেতারা খোঁজ ও নেন না কর্মীদের পরিবারের কি অবস্থা। পরিবার থেকে যোগাযোগ করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সহায়তা মিলেনা নেতাদের কাছ থেকে। ফলে পারিবারিক সুত্রে বিএনপির রাজনীতি করে আসা কর্মীরা জেলার নেতৃবৃন্দের প্রতি ক্ষোভ চেপে আছে দীর্ঘদিন ধরে। কেউ কেউ নিস্ক্রিয় হতে চাইলেও পুলিশের খাতায় নাম থাকায় অহেতুক মামলার বোঝাও বইতে হয় বলে দাবি করেন তারা।

জেলার রাজনৈতিক নেতার পরিচয় নিয়ে বারংবার ঢাকায় গিয়ে শোডাউন কিংবা মনোনায়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সুদৃষ্টির আশায় থাকাকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সারাবছর কর্মীদের খোঁজ খবর না নিয়ে মামলার ভয়ে বিদেশে পলায়ন আর ভোটের মৌসুমে দেশে এসে ঢাকামুখী হয়ে নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে কেউ কে। উড়ে এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের লবিং করে মনোনায়ন পেলে তা দলের জন্যেই বিপদ ডেকে আনবে মনে করেন তারা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারীদের হতে হবে জনসম্পৃক্ত ও কর্মীবান্ধব, তবেই মিলবে দলের মনোনায়ন প্রত্যাশীদের কাঙ্ক্ষিত সমর্থন ও কমে আসবে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর