paradise

জেলায় তৈমূর মহানগরে সাখাওয়াত


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
জেলায় তৈমূর মহানগরে সাখাওয়াত

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরেই রাজপথের বাইরে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামেই তাদের তেমন কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই পুলিশ প্রশাসনের দোহাই দিয়ে তারা রাজপথ বিমুখ হয়ে থাকেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ভূমিকা পালন করে আসছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় বাইরে চলে যান। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ফের ক্ষমতায় বাইরে থেকে যান বিএনপি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি দিন দিন রাজপথ ছেড়ে ঘরমুখী হতে থাকেন। দলীয় কোন কর্মসূচিতেই তারা রাজপথ তো দূরের কথা এমনকি রাজপথের কাছেও ঘেঁষতে পারেন না।

এদিকে আন্দোলনকে বেগবান করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতে করা হয় রদবদল। কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি, অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি এবং অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগরের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের ত্যাগী নেতাদেরকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কমিটি থেকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু আগের কমিটি অল্প সময়ের জন্য রাজপথে দেখা গেলেও বর্তমান কমিটির নেতারা রাজপথ থেকে একেবারেই উধাও হয়ে যান।

কমিটি ঘোষণার প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কর্মসূচি করতে পারেননি তারা। শুধুমাত্র ফটোশেসন আর অলিগলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন তারা। যার বেশির ভাগ কর্মসূচিতেই নানা অজুহাত দেখিয়ে জেলা সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম অনুপস্থিত থাকেন। ফলশ্রুতিতে রাজপথ ছেড়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা হয়েছেন আরো বেশি ঘরকুনে আর জেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা শহর ছেড়ে গ্রামমুখী হয়েছেন।

তবে এ ক্ষেত্রে দলীয় প্রায় সকল কর্মসূচিতেই ব্যতিক্রম থাকেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

দলীয় কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা অনুপস্থিত থাকলেও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম নিজ উদ্যোগে সরব থাকতেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদ আপদেও তিনি সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নিখোঁজ ও গ্রেফতারের ঘটনায়ও রনির পক্ষে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এগিয়ে এসেছেন। ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ও পাশাপাশি সন্ধ্যানের দাবিতে তিনি বিবৃতিও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালতে আইনী লড়াই চালাতেও নিজ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪০ তম প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর জনসভাতেও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলমের শোডাউন নজর কেড়েছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তার ডাকে নেতাকর্মীরা ছুটে এসেছেন। নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে ঢাকার রাজপথে তিনি শোডাউন করেছেন। সাম্প্রতিক বিএনপির নেতার্মীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায়ও নারায়ণগঞ্জে তিনি সর্বোচ্চ মামলার আসামী হয়েছেন।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপিতেও সবার থেকে এগিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দলীয় কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা নিরব থাকলেও নিজ উদ্যোগে নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। মহানগরের শীর্ষ নেতারা যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন যেখানে বরাবরই সফল হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের সময় কারাগারও বরণ করতে হয়েছে তাকে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির নিখোঁজ ও পরর্বর্তীতে গ্রেফতারের ঘটনায় রনির পক্ষে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ ও সন্ধ্যানের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছেন। তার সন্ধ্যানের দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসেও হাজির হয়েছেন। পরবর্তীতে রনির গ্রেফতারে তার পক্ষ নিয়ে আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে দিন দিন প্রশংসিত হয়ে উঠছেন। বিএনপির প্রকৃত নেতা হিসেবে তাদেরকেই নেতাকর্মী-সমর্থকরা বেছে নিতে শুরু করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর