rabbhaban

ভোটের আগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিক লীগ নেতার ইন্ধন!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৮, রবিবার
ভোটের আগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে শ্রমিক লীগ নেতার ইন্ধন!

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা যখন সন্নিকটে তখন পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নারায়ণগঞ্জেও এর প্রভাব পড়ে মারাত্মকভাবে। মহিলা কলেজের ছাত্রীদের উপর নগ্ন হামলা তো বটেই আটকে দেওয়া হয় খোদ প্রধানমন্ত্রীর পিএসকেও।

তবে জনভোগান্তির পেছনে নারায়ণগঞ্জের একজন শ্রমিক লীগ নেতারও ইন্ধন পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ছিল। রোববার ২৮ অক্টোবর থেকে ওই পরিবহন ধর্মঘটের একদিন আগে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সমাবেশ করে ধর্মঘটের পক্ষে অবস্থান নেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন হয় যা পরে সংসদে পাশ হয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নামে শ্রমিকেরা। আর ভোটের আগে এ ধর্মঘটের কারণে রোববার নারায়ণগঞ্জ থেকে চলাচলকারী সকল গণপরিবহন ও ট্রাক বন্ধ ছিল। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। আর ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য দ্রব্য আমদানী কিংবা রপ্তানী না করতে পেরে লোকসান গুনচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া দুইদিন ট্রাক বন্ধ থাকলে দ্রব্যমূল্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

এর আগের দিন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ও আন্তঃজিলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাউসার আহম্মেদ পলাশ সমাবেশে বলেন, ‘আমরা এসব ধারা বাতিলের দাবি করছি। আমরা ৩০২ ধারাসহ জরিমানা বাতিলের দাবি করছি। অন্যথায় আমাদেরকে দাবি আদায়ে পথে নেমে আসতে বাধ্য করবেন না।’

এর আগেও পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আন্দোলন যায় বাংলাদেশ ট্রাক চালক ইউনিয়ন পাগলা শাখা যার সভাপতি হলেন কাউসার আহমেদ পলাশ। শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক পলাশ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগেরও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। সরকার দলের এ নেতার সংগঠনও শেষতক সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে।

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবীতে ৭ অক্টোবর থেকে ওই আন্দোলন শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জেও এটা চলমান। ৮ অক্টোবর ছিল আন্দোলন। তবে পাগলা ও ফতুল্লা এলাকাতে এক পক্ষ সকালে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করলেও আরেকটি গ্রুপ ভাঙচুরের চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে পলাশ সমর্থিতরা ছিল শুধুমাত্র সভা আর শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটে।

ওই সময়ে শ্রমিক নেতা কাউছার আহম্মেদ পলাশ বলেছিলেন, আমাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আমাদের দাবি আদায় করবো। আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়েছি তারা ট্রাক বন্ধ রাখলে ঢাকায় চাল ডাল আনা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সংকট সৃষ্টি হবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত শ্রমিক লীগ নেতাদের একজন কাউসার আহমেদ পলাশ। নানা বিতর্ক আর তির্যক অভিযোগ রয়েছে ছাত্রলীগ হয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় পদে অধিষ্ঠিত হওয়া এ নেতার বিরুদ্ধে যিনি মূলত রাজনৈতিক গন্ডি আলীগঞ্জ কেন্দ্রীক রেখেছেন। ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ সরাসরি পৃষ্ঠপোশকতা করছেন পলাশকে। সুনজরে রেখেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীও। এছাড়া আওয়ামী লীগের ঘুপটি মেরে থাকা অংশও পর্দার আড়াল থেকে পলাশকে মৌন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

এরই মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে মামলা হুংকার এমনকি চামড়া তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েও বিতর্কে বিঁধেছেন পলাশ। যদিও কখনো কখনো এক বিষয়টি আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতাদের কাছে পজেটিভ ও ঝুলিতে ডিম ভরার মতই। তাছাড়া পলাশের বিরুদ্ধেও উঠে এসেছে চাঁদাবাজী আর নদী দখলের এক ভয়াবহ চিত্র। অটো রিকশা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক থেকে শুরু করে লোড আনলোড সহ শ্রমিকের রক্তঝরা ঘর্মাক্তদের কাছ থেকেও চাঁদা হিসেবে কেড়ে নেওয়া হয় মজুরির টাকা। যদিও বরাবর অস্বীকার পলাশের। কিন্তু সরেজমিনে এর প্রমাণও মিলে কখনো কখনো প্রশাসনিকভাবে। তবে এসব চাঁদাকে আবার ভিন্নরূপে বলা হয় ‘কল্যাণে ব্যয়ের খাত’ হিসেবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর