rabbhaban

সে কালের সারোয়ার মাকসুদ এ কালের হেলাল নিজাম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:৫৬ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
সে কালের সারোয়ার মাকসুদ এ কালের হেলাল নিজাম

নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক কারণে বিগত দিনে অনেক আলোচিত জুটি ছিল। দুইজনের ওই জুটি এক সময়ে বেশ দাপট নিয়েই দাবড়িয়ে বেড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত। তাদের মধ্যে এক সময়ের আলোচিত ছিলেন সারোয়ার মাকসুদ জুটি। তবে দুইজনই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত তাদের হাকডাক থাকলেও ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দুইজনই দেশ ছাড়েন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দুইজন আর তেমনভাবে দাঁড়াতে পারেনি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অনুগামীদের মধ্যে ছিলেন এ দুইজন। তবে দুইজনের পরিবর্তনে এখন স্থান দখল করে আছেন এ প্রজন্মের জাকিরুল আলম হেলাল ও শাহনিজাম। তাদের মধ্যে হেলাল হলেন প্রয়াত গোলাম সারোয়ারের ভাই। তিনি এখন মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর নিজাম একই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক।

জানা গেছে, ১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সময়ে আলোচিত ছিলেন গোলাম সরোয়ার ও নুরুল আমিন মাকসুদ। এ দুইজনের মধ্যে গোলাম সারোয়ারকে ওই সময়ের ও বর্তমানের এমপি শামীম ওসমানের ডান হাত আর নুরুল আমিন মাকসুদকে বাম হাত হিসেবেই সবাই জানতো। শামীম ওসমানের পর এ দুই সেনাপতির অধীনে ছিল নিচের সারির লোকজন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে নুরুল আমিন মাকসুদ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন নুরুল আমিন মাকসুদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের প্রতীক ছিল পেপেঁ। তিনি নির্বাচনে মোট ৬০৪ ভোট পেয়েছিল। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর গোলাম সারোয়ার চলে যান ভারতে। আর মাকসুদ ভারত হয়ে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওই সময়ে দুইজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড ওয়ারেন্টও জারি করে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর গোলাম সারোয়ার চলে আসেন ঢাকাতে। আসেন মাকসুদও। তবে বেশীদিন টিকতে পারেনি মাকসুদ। ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল সকালে ঢাকার গাজীপুরের পূবাইল এলাকা থেকে মাকসুদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ অক্টোবর মৃত্যুর আগের ২০ দিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গোলাম সারোয়ার। তার প্রচ- জ¦র ছিল। প্রথমে তাকে ল্যাব এইডে নেয়া হলে ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষ তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে। সেটাই তাকে বেশী ক্ষতি করেছে। পরে তাকে ল্যাব এইড থেকে শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। তবে তারপরেও তার শারীরিরক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ও পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে শামীম ওসমানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আস্থার প্রতীক হয়ে আছেন নিজাম ও হেলাল। দুইজনের রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী। দুইজনের প্রতিও শামীম ওসমান বেশ আস্থা রাখছেন। যে কোন ধরনের কর্মসূচী পালনে এখনো দুইজনের উপর ভরসা রাখেন শামীম ওসমান।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর