rabbhaban

‘এরশাদ বলেছেন সেলিম তুমি তো আল্লাহর ওলি’


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
‘এরশাদ বলেছেন সেলিম তুমি তো আল্লাহর ওলি’

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আজ শুক্রবার জুমআর নামাজের পর আমি আমার বাবা, ভাই, মা, ভাই, শ্বশুর, শাশুড়ি, দাদা দাদী সহ নারায়ণগঞ্জের প্রাণপ্রিয় মানুষ আলী আহাম্মদ চুনকার কবর যিয়ারত করেছি। পরে কদমরসূল দরগা যিয়ারত করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ে বলে আসছি। আমার মার্কা লাঙল, আমার মার্কা নৌকা, আমার মার্কা ধানের শীষ।  গতবার আমি যখন নির্বাচন করেছিলাম তখন সবাই আমার কাছে গ্যাস চেয়েছিল। কিন্তু আমি কিছু ত্রুটির কারণে সেটা করতে পারি নাই। এটা আমার ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, ‘এখন সকল মানুষের একটি দফা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের এক দফা, এক দাবি, সেলিম ওসমান নির্বাচন করবে এমন ঘোষণা দিতে হবে। আমি আমার উপজেলা চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরবৃন্দ, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের প্রতি আমি ঋণী। আরো ঋণী যে আমার জাতীয় পার্টির লোকজন কোন টেন্ডারবাজি দখলবাজিতে নাই। এটা একটি বড় প্রাপ্তি। আমি অত্যন্ত স্বার্থপর একজন মানুষ। আমি আপনাদের কিছুই দিতে পারি নাই। আমার ভাইয়ের পর আমি সংসদ সদস্য হয়েছি। আমার শরীরে অপারেশনের কারণে ৬ মাস নষ্ট হয়েছে। তাই আমি সাড়ে ৪ বছর নয়, সাড়ে ৩ বছর কাজ করতে পেরেছি।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমারও ইচ্ছে করে আবার সংসদ সদস্য হতে। কিন্তু ভয় লাগে ঈমান ঠিক রাখতে পারবো কী না। তাই আপনাদের দোয়া চাই। আমি দুটি শর্ত দিব। নির্বাচনের আগে সকল স্কুলে পরীক্ষা চলবে। নির্বাচনের সময়ে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিস্টার্ব করা যাবে না। তাহলে আমার ব্যর্থতা হবে। সকলের দোয়ায় প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্কুল হয়েছে। অনেক স্কুল সরকারী হয়েছি। আমি হলফ করে বলতে পারি আমি না থাকলেও প্রতি স্কুলে চার তলা হবে। আমি চেয়েছিলাম সকল রাস্তাঘাট পাকা হলে নির্বাচন করবে। কিন্তু ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাই বলছি বরাদ্দ হয়ে গেছে। সকল সড়ক পাকা হয়ে যাবে।’

তিনি বলেছেন, ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ভালো না। অনেকেই লাঙলের পোস্টার লাগিয়েছেন। পয়সা খরচ করছেন। আমি কাউকে বাধা দেই নাই। কে লাঙ্গলের পোস্টার লাগাচ্ছেন। কোন কন্ট্রাকদার সাহেব ইলেকশন করবেন। কে অপবাদ ছড়াচ্ছেন সব জানি। কয়েকজন সাংবাদিক পত্রিকা বিক্রির জন্য খোঁচা দেন। কিন্তু এমন কিছু করবেন না ভবিষ্যৎ নারায়ণগঞ্জকে নষ্ট করতে।’

সেলিম ওসমান বলেন, আমি তিনজন মানুষকে সালাম করে ওমরা হজ করেছি। আমি আপাকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) প্রশ্ন রেখে বলেছি নির্বাচনে যাবো নাকি যাবে না। আপা আমাকে বলেছেন, ‘সেটা তোমার সম্পূর্ণ ইচ্ছে। তুমি যা চাইবা আমি তাই করবো।’

বিরোধী দলের নেত্রী যাকে আম্মা বলে ডাকি। তিনি বলেছেন, ‘আমাকে সালাম করো। তিনি পরে আমাকে কপালে চুমু দিয়ে বলেছেন তোমাকে আরো আগে কেন পেলাম না। তোমার জন্য দোয়া করি। তুমি আগামীতে দাঁড়াবে। কারণ জনগণ তোমাকে ভালোবাসে।’

পরে আমি গিয়েছিলাম পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কাছে। প্রশ্ন করেছিলাম, ‘যাবো আমি নির্বাচনে নাকি নতুন কাউকে ঠিক করলেন।’ জবাবে আমাকে বলেছেন, ‘তুমি আমার পার্টির কেউ না। তুমি তো আল্লাহর ওলি। আমি ডিক্লেয়ার করে দিয়েছিলাম। নারায়ণগঞ্জ মানেই ওসমান পার্টি ওসমান লীগ।’

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাব চাইলে অনেক উন্নয়ন সম্ভব। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে তালিকা নিয়ে আসবেন কত টাকার উন্নয়ন হয়েছে। কোন টাকা নষ্ট হয়েছে কিনা খবর নিবেন। আমি কোন মামলা করি নাই। আমার পরিবারের অনেক নারীদের ছবি দিয়েও অনেক সংবাদ করেছেন। আমি মামলা করবো না। আমরা উন্নয়ন চাই। অপরাজনীতি মুক্ত করতে হবে।’

সেলিম ওসমান বলেন, ‘আগামীতে আর শুনতে চাই না নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাস হয়। একথা একেবারে চাপা দিতে হয়। কারণ ইতোমধ্যে বন্দরের ধামগড়বাসী বলেছেন এখন আর সেখানে চাঁদা দিতে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি জানি না। আমি যে রাজনীতি করেছিলাম সেই রাজনীতি এখন আর নাই। আমি ছোট বোনকে বলবো। কে শীতলক্ষ্যায় সেতু করবে সেটা বড় কথা না। আমার কথামত মেয়রও একই কথা বলেছিলাম। বন্দরের মানুষকে উপকার করতে হবে। আমি একটি ডিও জমা দিয়েছি। ২০১৯ ও ২০২০ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রচুর উন্নয়ন উন্নয়ন হবে’।

সেলিম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসলে দেশে আরো উন্নয়ন হবে। দেশ এগিয়ে যাবে। সেলিম ওসমান না আসলে কিছু যাবে আসবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী যাতে ক্ষমতায় আসে সেইজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। আমি নির্বাচন করবো কিনা সেটা ঘোষণা দিবেন প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই আমার মার্কা ঠিক করে দিবেন। আর যদি দলের মার্কা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট হন তাহলে আপনাদের মার্কা নিয়েই সেলিম ওসমান নির্বাচন করবে। সেলিম ওসমান আগামীতে নির্বাচন করবেন যদি আল্লাহ তালা হায়াত দেন। জয় আপনাদের সুনিশ্চিত। আপনাদের ভোটে ইনশাল্লাহ আবারো সংসদ সদস্য হয়ে গোলামী করতে প্রস্তুত।

এসময় উপস্থিত জনগণ দুই হাত তুলে নির্বাচন করার জন্য সম্মতি জানান। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে এমপি হিসেবে সেলিম ওসমানকেই দেখতে চাই বলে স্লোগান দেয়।

২ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনী এলাকার বন্দর উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে ময়মনসিংহ পট্টিতে জনসভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, যুগ্ম আহবায়ক আকরাম আলী শাহীন, বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলাগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল, মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়া, মহানগর মহিলালীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ, বন্দর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল লতিফ, ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান, ধানগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম, জেলা ছাত্র সমাজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন ভাওয়াল, জেলা যুব সংহতির সভাপতি এস এম রাজা হোসেন রাজা, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাফায়েত আলম সানী ও মহাগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত রহমান বিন্দুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর