rabbhaban

নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে : অাইভী


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে : অাইভী

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, সকলেই খালি বলেন সামনে আমাদের বিপদ আর বিপদ, দল ক্ষমতায় না আসলে সামনে আমাদের কি হবে। দল ক্ষমতায় আসতেই হবে এটা কিন্তু নির্ভর করছে আমাদের মত অনেক নেতাকর্মীদের উপরে। আমাদের ব্যবহার, আমাদের কথা বলা, আমাদের সততা, আমাদের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এসবের মধ্যেই নির্ভর করছে মানুষ আওয়ামীলীগকে ভোট দেবে কি দেবেনা তা। নেত্রী একটি কথা বলেছেন, মাঠে যার জনপ্রিয়তা তাকেই তিনি মনোনয়ন দেবেন। কারণ মাঠের মাটি ও মানুষের সাথে আপনার সম্পর্ক আছে কিনা তা তিনি দেখবেন।

শনিবার (২ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে দুপুর ১২টায় শহরের ২ নং রেলগেটস্থ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগের নৌকাকে ইউনিয়ন পরিষদে ফেল করিয়েছে। আমরা কি তাদের পাদের পাশে গিয়ে তখন দাঁড়িয়েছিলাম? জেলা আওয়ামীলীগ কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল? আমি তো অন্তত যাইনি আমাকে কেউ যেতেও বলেনি। আমি আমার পদের কারণে সেখানে যেতে পারিনা, যাওয়া নিষেধ। আমার পদবি আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়না। কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগ তো পাশে গিয়ে দাঁড়ায় নাই। কেন ফেল করানো হয়? জনপ্রিয় প্রার্থীদেরকেও কেন ফেল করানো হয়েছে? কে ফেল করালো কি কারণে করালো। তার মানে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনও নৌকার বিপক্ষে কাজ করে, বর্তমান যে প্রশাসন আছে। প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েই তারা কেন্দ্রগুলো দখল করেছে। গোগনগর ইউনিয়নেরটা আমি কম বেশি জানতাম। সেখানে কিন্তু পুলিশ আওয়ামীলীগের নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে, ভোট দিতে দেয়নি। নওশাদ সাহেবের সামনে কিন্তু সীল মেরেছে। কার নির্দেশে কার প্রয়োজনে আমরা কিন্তু সকলেই জানি।

মেয়র বলেন, আজকে সেই এমপি স্টেজে যেয়েই আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ বক্তৃতা দেয়। আমি জানিনা তারা কেন ভালোবাসেন কাউকে আবার নেত্রীকে। এত সুবিধাবাদী হলে তো চলবেনা। জেলহত্যা দিবসে আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের ওই নেতারা কিন্তু মৃত্যুকে পরোয়া করেনি, দলের সাথে বেঈমানী করেনি। কি পরিমান ভালোবাসা ও দলের প্রতি আনুগত্য তাদের ছিল। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের এরকমই হতে হবে, শত বিপদ আপদেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও দলের সাথে বেঈমানী করবোনা এবং সর্বশেষ নৌকার পক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকবো এই নৌকা যাকেই দেয়া হোকনা কেন।

‘যেখানে আপনারা দেখেছেন হকার উচ্ছেদে আমরা যখন গিয়েছি আমরা ফুটপাতে হাঁটছিলাম। ঐদিন যারা ছিল আমার সাথে সকলেই আমার ভাই। ঐদিন আমার সামনে যেই পিস্তল নিয়ে আসা হয়েছিল সেটিও তারা তুলে ফেলেছিল, তার মানে তারা ভয় পায়নি। নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাহস এমনই এই পিস্তলকে সরিয়ে তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তাহলে এই শহরের মানুষের সাহস আছে শুধু নেতৃত্বের কারণে তারা পিছিয়ে যায়।’

আইভী বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক সাহেবের নারায়ণগঞ্জে একটি কর্মসুচী ছিল যেখানে তিনি উন্নয়নের কথা তুলে ধরতেন সাধারণ মানুষের মাঝে। কিন্তু কেন তাকে এখানে আসতে দেয়া হলোনা? আমার দৃঢ় সেদিন নারায়ণগঞ্জে নৌকায় নৌকায় সব কিছু একাকার হয়ে যেত। সেই ভয় পেয়ে যারা হুমকি দিলো, আসলে গন্ডগোল হবে, আসলে এই হবে, শ্রমিকদের ফতুল্লাতে সমস্যা এ ধরনের মিথ্যা বলে যারা নারায়ণগঞ্জকে জুজুর ভয় দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের একত্রিত হওয়া উচিত। ভয় কিসের, মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাহলে আমরা মৃত্যুকে কেন ভয় পাবো।

আইভী বলেন, আমি ক্লাস ৮ এ পড়ি জেল হত্যার সময়। তখন এমন এক অবস্থা ছিল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কোথায় কোন অবস্থায় ছিলনা। রাজপথে তো দূরের কথা দলীয় কার্যালয়েও বসতে পারতোনা, বাড়িতে থাকতে পারতোনা নেতাকর্মীরা। এমন একটা মুহুর্তে বঙ্গবন্ধু সড়কের সেই শ্লোগান ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতেও আওয়ামীলীগকে থামিয়ে রাখা যায়নি আর যাবেও না। আগামীতে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয়ে আসতে পারলে এই জেলহত্যার বিচার হবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।

এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং আবু হেনা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর