rabbhaban

মনোনয়ন ফরম ‘ছেলের হাতের মোয়া’


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
মনোনয়ন ফরম ‘ছেলের হাতের মোয়া’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করতে শুরু করেছে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামনের সাড়িতে থাকা দলগুলো। যে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহে হিড়িক পরেছে দলগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এই মিছিলে পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দও। তবে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি আসন থেকে প্রধান দুটো দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী বেনামী কিছু নেতৃবৃন্দ যেনো ব্যাপক হাসির খোরাক যোগাচ্ছেন জনমনে।

বিশেষ করে নারায়গঞ্জ-৩ আসন তথা সোনারগাঁও থেকে বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ। আবার অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩১ জন। যাদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ। এমনকি কলেজ শাখার ছাত্রলীগ নেতাও। এ ধরনের নেতৃবৃন্দ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার মধ্য দিয়ে এ দুটি দলের দলীয় মনোনয়ন অনেকটা ছেলের হাতের মোয়া বানিয়ে ফেলেছেন বলে মন্তব্য করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।

এদিকে সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় দ্বন্দ্বে কারণে রূপগঞ্জ আসনে এত দীর্ঘ প্রার্থী তালিকার সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামীলীগে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রূপগঞ্জের এমপির দ্বন্দ্বের জেরে দাবি উঠে এলাকার সন্তানকে মনোনয়ন দেয়ায়। এদিকে রূপগঞ্জ থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ২৮ জনকে নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। কথা উঠছে এরা সকলেই মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নয়। বরং অন্য কোনো মনোনয়ন প্রত্যাশীকে সমর্থন দেয়ার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন।

তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাজাহান ভূইয়া, সহ-সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকু, ইঞ্জিনিয়ার শেখ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ভূইয়া, প্রচার সম্পাদক ও জেলা যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মানজারী আলম টুটুল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান ভূইয়া সজিব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান হারেজ, মুক্তিযুদ্ধকালীন রূপগঞ্জ থানা কমান্ডার আব্দুল জাব্বার খান পিনু, আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিষ্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, মোশারফ হোসেন বাবু, কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভানেত্রী ডাঃ খালেদা খানম, দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দাউদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূইয়া রানু, ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন ভূইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা মতিউর রহমান আকন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য কামরুল হাসান তুহিন, মিজানুর রহমান মিজান ও শীলা রানী পাল, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম চৌধুরী অপু, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহের, সাধারন সম্পাদক নাঈম ভূইয়া, মুড়াপাড়া সরকারি কলেজের ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেল ও আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহনুর সুলতানা মুনমুন।

আবার অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁ) আসনের বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কিছু নেতৃবৃন্দকে নিয়েও একই অভিযোগ উঠছে। নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী বিএনপির ১৫ জন হলেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও বিএনপির সহ সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আজিজুল হক আজিজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান স্বপন, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক, ছাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাছুম, বারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আসগর, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক ভূঁইয়া, শম্ভুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর, সোঁনারগা থানা শ্রমিকদলের সভাপতি মজিবর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব, সোনারগাঁও থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম চয়ন।

এছাড়াও মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ হাস্যরসের কারণ হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে।

জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মনোনয়নের ফরম সংগ্রহকারী অনেকেই ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ের নেতা। যে কমিটিগুলোর এখন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। আবার অনেক ফরম সংগ্রহকারীর এই আসনের জনপ্রতিনিধি হওয় দূরে থাক নিজের ঘরের দরবার শালিশ কারা ক্ষমতাও নেই বলে মনে করেন স্থানীয় জনগণ। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের কেউ কেউ কথা বলছে ভিন্ন সুরে। তাদের মতে, বিএনপির এ সকল বেনামী নেতাদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পিছনেও রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতৃবৃন্দের হাত।

বিএনপির এ সকল ফরম সংগ্রহকারীদের সম্পর্কে সোনারগাঁয়ের স্থানীয় জনগণ বলছেন, আওয়ামীলীগের মতো ৩০ হাজার টাকায় ফরম তুলতে হইলে বুঝা যেতো। ফরম তো নিয়েছে ৫ হাজার টাকায়। দেখি কয়টা ফরম জমা পরে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর