rabbhaban

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন ইস্যুতে স্নায়ুচাপ বাড়ছে, বুধবার সাক্ষাৎকার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
আওয়ামী লীগে মনোনয়ন ইস্যুতে স্নায়ুচাপ বাড়ছে, বুধবার সাক্ষাৎকার

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে আওয়ামীলীগ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ধীরে ধীরে স্নায়ুচাপ বাড়ছে। কে পারে মনোনয়ন নামের সোনার হরিণ। ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণার পর থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমাদানের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর দলীয় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সারা দেশের আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। এতে করে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রার্থী হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলে তাদের স্নায়ুচাপ বেড়ে যাচ্ছে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে কেন্দ্রীয় লবিং করে যাচ্ছেন।

এর মধ্যে দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘আগামী ১৪ নভেম্বর ধানমন্ডীতে সকাল ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাত করবেন দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। তবে সে দিন মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হবে কিনা তা জানানো হয়নি।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনেই আওয়ামলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। কোন কোন আসনে কয়েক হালি খানেক মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। আবার কোন কোন আসনে মনোনয়ন পত্রের সংখ্যা ৩ ডজনের গন্ডিও পেরিয়েছে। এতে করে একই আসনে নৌকার একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কোন একজন মনোনয়নের সোনার হরিন পেতে যাচ্ছে, কে হাসবে মনোনয়নের হাসি। এটা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-গুঞ্জন।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগ দলটি শরীক দল জাতীয় পার্টি এককভাবে নাকি জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। এতে করে মনোনয়ন ইস্যু জটিলতা এখনো খোলাসা হয়নি। কারণ জাতীয় পার্র্টি দলটি যদি বিগত দিনের মত জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে আওয়ামীলীগের অনেকগুলো আসন ছেড়ে দিতে হবে এই শরীক দলের জন্য।

এর আগে দলীয় সূত্র ও দেশের প্রথম সারির পত্রিকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টি দলটি যদি মহাজোটে থাকে তবে যেসব আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ রয়েছে সেই আসনগুলোতে জাতীয় পার্টির ওই সাংসদরা প্রার্থী হচ্ছেন। সেই অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান জাতীয় পার্টির সাংসদ সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা ফের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। 

তবে পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি দলটি যদি নির্বাচনে আসে তবে জাতীয় পার্টির সাথে আমরা ফের জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে না যায় তবে জাতীয় পার্টি এককভাবে যাবে। সম্প্রতি আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টি দলটির সংলাপে এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জোটগতভাবে যদি আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে এই আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। আর যদি কোন কারণে আওয়ামীলী পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে মনোনয়ন ইস্যুতে বেশ গোলমেলে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি শামীম ওসমানের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলা চলে। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৩১ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এতে করে এই আসনের অনেকটা গোলমেলে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘মনোনয়ন হাঁসিতে কে হাঁসতে যাচ্ছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সম্ভাবনার তালিকায় অনেকের নামই রয়েছে। তাই সমীকরণ ও প্রেক্ষাপটের আলোকে অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নাম আলোচনায় উঠে আসছে।

অগ্রিম ঘোষণা না দিয়েও মনোনয়ন ফরম কিনে চমক দেখিয়েছেন কেউ কেউ। আবার কেউ শুধুমাত্র লাইম লাইটে আসতেই মনোনয়ন নিয়ে তৈরী করছেন বিতর্ক। কেউ আবার দুই আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে রীতিমত আলোচনায় উঠে এসেছেন। ফলে মনোনয়ন প্রার্থীদের নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের কাছে তৈরী হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত ঘোষণা হলেই সকল ধোঁয়াশা কাটবে বলে আশা করছেন আওয়ামীলীগের তৃণমূল কর্মীরা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বলছেন, ‘কে মনোনয়ন পাবে এ ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে কোন সিদ্ধান্ত এখনো জানায়নি। আগামী ১৪ নভেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সাক্ষাতকারে পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হতে পারে। তবে সরকারী ও বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেকটি আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। কেননা কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।’

নারায়ণগঞ্জ ৫ (সদর ও বন্দর) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১০ জন। তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামাল মৃধা, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হালিম শিকদার।

নারায়ণগঞ্জ ৩ (সোনারগাঁও) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন প্রত্যাশী। তারা হলেন নারায়ণগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হোসনে আরা বাবলী, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সোনারগাঁও আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুল হক ভূইঁয়া, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের শিক্ষা সম্পাদক ড. সেলিনা আক্তার, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এডভোকেট নুরজাহান, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু, অধক্ষ্য শিরিন বেগম প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পরেভেজ ও মোজাহিদুল ইসলাম হেলো সরকার।

রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ক্রয়ের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী, শিল্পপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাজাহান ভূইয়া, সহ-সভাপতি খন্দকার আবুল বাশার টুকু, ইঞ্জিনিয়ার শেখ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ভূইয়া, প্রচার সম্পাদক ও জেলা যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মানজারী আলম টুটুল, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান ভূইয়া সজিব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান হারেজ, মুক্তিযুদ্ধকালীন রূপগঞ্জ থানা কমান্ডার আব্দুল জাব্বার খান পিনু, আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিষ্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, মোশারফ হোসেন বাবু, কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভানেত্রী ডাঃ খালেদা খানম, দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দাউদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভূইয়া রানু, ভুলতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন ভূইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা ফেরদৌসী আলম নীলা, উপজেলা শ্রমিকলীগ নেতা মতিউর রহমান আকন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য কামরুল হাসান তুহিন, মিজানুর রহমান মিজান ও শীলা রানী পাল, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম চৌধুরী অপু, উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মেহের, সাধারন সম্পাদক নাঈম ভূইয়া, মুড়াপাড়া সরকারি কলেজের ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেল ও আওয়ামীলীগ নেত্রী মাহনুর সুলতানা মুনমুন নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর