rabbhaban

সেলিম ওসমান ঠেকাতে আওয়ামী লীগে ১০


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৯ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
সেলিম ওসমান ঠেকাতে আওয়ামী লীগে ১০

‘নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে নৌকা চাই’ এমন স্লোগানের আড়ালে হয়তো সেলিম ওসমান ঠেকাও মিশনেই নেমেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের একাংশ। যাদের মধ্যে ১০ জন ইতোমধ্যে এই আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ণ ফরম সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে।

জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দশ জনের কারো কারো শুরু থেকেই কোনো স্থির রাজনৈতিক চরিত্র বা মতাদর্শ নেই। কেউ আবার শুরু থেকে ওসমান পরিবারের অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে। যারা ইদানিং সময়ে আবার নানাবিধ কারণে ওসমান পরিবার বিদ্বেষী নানা কর্মকান্ডে জড়িত থাকেন বলেও জানায় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র।

এদিকে সর্বশেষ তথ্য মতে এখন পর্যন্ত এই আসন থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের যে ১০ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তারা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল।

সূত্র বলছে, আবু হাসনাত শহীদ বাদল, খোকন সাহা, আনিসুর রহমান দিপু, আব্দুল কাদির এক সময় ওসমান পরিবারের একনিষ্ঠ কর্মীদের তালিকায় এগিয়ে ছিলো সবচেয়ে বেশি। যার মধ্যে খোকন সাহা, আনিসুর রহমান দিপুকে ওসমান পরিবারের ছোট ছেলে হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান সরাসরি বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিতেন। সর্বশেষ আইনজীবি সমিতি নির্বাচনেও তিন বন্ধু একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুয়েল ও মহসিন মিয়ার জন্য কাজ করেছেন বলে জানা যায়। তবে সেখানে একেবারেই বাধ্য হয়ে তারা একত্রিত হয়েছিলেন বলে জানায় কেউ কেউ। এরপূর্বে ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বেই ছিলেন খোকন সাহা। পরবর্তীতে যিনি নানা কারণে ওসমান পরিবারের আনুগত্য ত্যাগ করেন।

আব্দুল কাদির শুরুতে জেলার রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের অনুগত হিসেবে পদার্পন করেন। সেই লবিং নিয়ন্ত্রণ করেই তিনি জেলা যুবলীগের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ দুই মেরুতে বিভাজিত হয়ে পড়লে তিনি ওসমান বলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

মাহমুদা মালা মূলত খোকন সাহার শিষ্য হিসেবেই ওসমান পরিবারের অনুগত ছিলেন। তার উপর ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওসমান পরিবারের প্রকাশ্য বিরোধিতায় আসেন তিনি।

জিএম আরাফাত ২০১৪ সালের উপ নির্বাচনের সময় সেলিম ওসমানের পক্ষে প্রচারণার কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সদস্য পদ পাওয়ার পর থেকে মূলত তার বিরোধী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অপরদিকে আলী আহম্মদ রেজা উজ্জল ও আরজু রহমান ভূইয়াকে আইভী বলয়ের সদস্য হিসেবেই ওসমান বিরোধী বলে মনে করেন সকলে।

এছাড়া শুক্কুর মাহমুদের কোনো রাজনৈতিক চরিত্র বা আদর্শ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তাদের মতে সে হুজুগে মনোনয়ন চাইছে।

তবে শেষটা যেখানেই হোক নৌকা চাই স্লোগানের আড়ালে সেলিম ঠেকাও মিশনে যে সকল আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তারা ইতোমধ্যেই অনেকটা ব্যাকফুটে পরেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এমন ঘোষণা আসার পর থেকেই। কারণ কথা ছিলো ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট ও অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। অপরদিকে আওয়ামীলীগ নির্বাচন করবে ১৪ দলীয় জোট আকারে। কিন্তু মহাজোট আকারে নির্বাচন করতে এলে অন্যান্য নির্বাচনের মতো এবারও এই আসনটি জাতীয় পার্টির জন্যেই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভবনা বেশি। আর যদি তাই হয় তবে ফেল হয়ে যেতে পারে সেলিম ওসমান ঠেকাও মিশন। তবে ফলাফল যাই হোক না কেনো, তা জানা যাবে খুব শীঘ্রই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর