rabbhaban

সংসদ নির্বাচন : না.গঞ্জের ৩ টি আসনে বাড়ছে নাটকীয়তা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
সংসদ নির্বাচন : না.গঞ্জের ৩ টি আসনে বাড়ছে নাটকীয়তা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই নাটকীয়তা বাড়তে শুরু করেছে গোটা নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে। রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হওয়ায় জাতীয় ইস্যুতেও এই জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। আর সেসকল নাটকীয়তায় সবচেয়ে এগিয়ে নারায়ণগঞ্জের ৩ টি নির্বাচনী আসন। মূলত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জেলার ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকে প্রার্থী দাবি তোলার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩ ও ৫ আসনের নাটকীয়তা শুরু হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ১ আসনে শুধু আওয়ামীলীগ থেকেই ৩২ জনের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর থেকে জাতীয় আলোচনায় আসে এই আসনটি। নাটকীয়তা বেড়ে ওঠে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এমন সংবাদ ছড়িয়ে পরার পর থেকেই।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ-৩  (সোনারগাঁও), নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনগুলোতে বর্তমান সাংসদরা হলেন যথাক্রমে, গোলাম দস্তগীর গাজী, লিয়াকত হোসেন খোকা ও সেলিম ওসমান। আসনগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নাটকীয়তা চলছে নারায়ণগঞ্জ ১ আসনে। অন্যদিকে ৩ ও ৫ আসনের নাটকীয়তা নতুন কোনো রং না পেলেও। রূপগঞ্জ আসনটিকে জাতীয় পার্টির জন্যে ছেড়ে দেওয়া হলে বাকি দুটি আসনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টিকে কোনোমতেই ছাড় দিবে না বলেই মনে করছেন জেলার বোদ্ধামহল। তবে এসকল নাটকীয়তার শীঘ্রই অবসান দেখতে চান তারা।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের নাটকীয়তার সূত্রপাত আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজি ও কায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকের মধ্যকার দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়েই। যারা দুজনেই এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর ৩০ জনের মধ্যে ১৪ জন ইতোমধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন তারা মূলত মনোনয়ন বোর্ডে সাংসদ গাজীর হয়ে সুপারিশ করার লক্ষ্যেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তারা। আবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন এমন খবর ছড়িয়ে পরার পর থেকে দাবি উঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগের একটি অংশই তাকে এই আসনে নির্বাচন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে মোটা অঙ্কের লেনদেন কাজ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে এই আসনের শেষ হিসেব নিকেশ কীভাবে সমাধান হবে কী করে সেই বিষয়টি ঘোলা হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে, এই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পিছনে এই আসনের সাংসদের একচেটিয়া নীতি দায়ি এমন অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কোনো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে এবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর দৌড়ে ছিটকে পড়েছেন রফিকও। তাই দলের মধ্যবর্তী কোন্দল নিরসনে এ আসনটি আওয়ামীলীগ জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দিলেও তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন জেলার বোদ্ধা মহল।

অন্যদিকে, শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের যে সকল নেতৃবৃন্দ জেলার ৫ টি আসনেই নৌকা প্রতীক দাবি করে আসছিলেন সেখানে যদি নারায়ণগঞ্জ ১ আসনটি জাতীয় পার্টিকে নতুন করে ছেড়ে দেয়া হয় তবে অপর দু’টি আসন নারায়ণগঞ্জ ৩ ও ৫ কখনোই জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিবেন না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। সেক্ষেত্রে রং বদলাতে পারে এই আসনগুলো।

সূত্র মতে, এই ৩টি আসনেই আওয়ামীলীগের রয়েছে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। সেক্ষেত্রে এই আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী বাছাই নিয়েও নতুন মাত্র পেতে পারে নাটকীয়তা। এমনটাই মনে করছেন জেলার রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর