rabbhaban

মুখোমুখি বাবু ও ইকবাল


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
মুখোমুখি বাবু ও ইকবাল

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনটি। এই আসনটিতে আওয়ামীলীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন নজরুল ইসলাম বাবু। তার ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে তার বিপরীতে শক্তশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল পারভেজ।

সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নজরুল ইসলাম বাবু প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বর্জন করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে যান তিনি। যার ধারাবাহিকতায় এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সে হিসেবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে গেলে তার সংসদ সদস্য হিসেবে হ্যাট্রিকের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে বাবুও নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য সংসদীয় এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার মনোনয়ন টেকাতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন নিজ দলেরই মনোনয়ন প্রত্যাশী ইকবাল পারভেজ। তার সাথে রয়েছে আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগেরই একটি বিশাল অংশ। যে কোন উপায়েই হোক তারা নজরুল ইসলাম বাবুর মনোনয়ন টেকাতে চায়।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নজরুল ইসলাম বাবুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার আচার-আচরণেও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে তার সহযোগীরাও পরিবর্তন হয়েছে। প্রথমদিকে যারা বাবুর একান্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন নজরুল ইসলাম বাবু। কিন্তু এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাবুর মনোনয়নের পথে একমাত্র তিনিই শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার সাথে বাবুর বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

ইকবাল পারভেজের সমর্থনকারী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নজরুল ইসলাম বাবুর আচার-আচরণে পরবির্তন হয়েছে। তিনি এলাকার কাউকেই মানেন না। তার কাছে কোন মুরুব্বীরাও গিয়ে সম্মান পায় না। এমনকি দলীয় নেতাকর্মীদেরকেও তিনি মূল্যায়ণ করে না। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই তাকে বিভিন্ন রকমের হয়রানীর শিকার হতে হয়। বিপরীতে বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে নিজ বলয়ে ভিড়াচ্ছেন।

ফলে তারা আর নজরুল ইসলাম বাবুকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান না। যে কোন উপায়েই হোক তারা বাবুর মনোনয়ন আটকাতে চান। সে হিসেবে নজরুল ইসলাম বাবু ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজের অবস্থান রয়েছে মুখোমুখি। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে এই দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইকবাল পারভেজ সংসদীয় এলাকায় পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম বাবুও দলীয় মনোনয়নের জন্য তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।

এদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে একটি সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল এমপি হওয়ার পরে নজরুল ইসলাম বাবু অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন। ২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় তার অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ থাকলেও ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার সে অবস্থা থাকেনি। সেখানে দেখানো হয়েছিল, তার ব্যাংকে নগদ টাকা আছে মাত্র ৫শ’। এ ছাড়া তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে আছে ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে সাড়ে ৮ শতাংশ পৈতৃক জমি রয়েছে। হলফনামায় উল্লেখ আছে তার পেশা ঠিকাদারি।

কিন্তু মাত্র ৫ বছর পর ২০১৩ সালের নির্বাচনে তার হলফনামা আমূল বদলে যায়। এবার হলফনামাতেই নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে ৭২ লাখ ২১ হাজার ৫২৭ টাকা। আছে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ। একাধিক ফ্ল্যাট, অঢেল ভূ-সম্পত্তি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড নিউ ল্যান্ড ক্রুজার জিপ। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তিনি ৩২ বোরের একটা পিস্তল ও ১২ বোরের একটা শটগানও কিনেছেন। এমপি হিসেবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনা জিপ গাড়িটির দাম দেখানো হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এ গাড়ি তিনি ৬৮ লাখ টাকায় কিনেছেন।

অন্যদিকে দুর্নীতি কমিশন সূত্রে জানা যায়, গুলশান, বনানী ও মতিঝিল এলাকায় সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিভিন্ন সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ভুয়া মালিক সাজিয়ে বিক্রি করে দেন তিনি। পাঁচ বছরে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তিনি বিপুল পরিমাণ জমি কিনেছেন। ওয়ারী থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানেই ইকবাল পারভেজের প্রায় ৬০০ শতাংশ জমি কেনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে করা ওই সব জমির দলিলমূল্য দেখানো হয়েছে তিন কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাস্তবে এসব জমির মূল্য অনেক বেশি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর