rabbhaban

ছিটকে পড়ছেন সাখাওয়াত ও কালাম!


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
ছিটকে পড়ছেন সাখাওয়াত ও কালাম!

নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে জটিল সমীকরন ধীরে ধীরে সমাধান খুঁজে পাচ্ছে বলেই মনে করছেন জেলার রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবকয়টি দল ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এমন সিদ্ধান্তে আসার পর থেকেই তৃণমূল থেকে নেতৃস্থানীয় সকলের মুখেই ছড়িয়ে পড়ছে একই বানী। শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে এস এম আকরামই হচ্ছেন ধানের শীষের কান্ডারী এমন কথা ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। সেক্ষেত্রে এই আসন থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা কিছুটা ব্যাকফুটে বলাই শ্রেয়। পাশাপাশি মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পড়ছেন বিএনপি থেকে এই আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ হেভিওয়েট দুই প্রার্থী আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন। এমনটাই মনে করছেন বোদ্ধা মহল।

জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐক্যফ্রন্টের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পুরো দেশে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা। সেক্ষেত্রে রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনটিতে বিন্দুমাত্র ছাড় দিবেন না তারা। এদিকে সাবেক এমপি আবুল কালাম বা মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি যথেষ্ট পরিমাণে হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও তারা রাজনৈতিক ভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে। পাশাপাশি কিছু মামলাতেও আসামী হয়ে আছেন। সাখাওয়াত হোসেন ১৫ নভেম্বর একটি মামলাতে জামিন পেলেও অন্য একটি মামলাতে তাকে আবারো গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের সময় এ সকল জটিলতা কিছুটা হলেও এড়িয়ে চলবার চেষ্টা করবে ঐক্যফ্রন্ট। এমনটাই আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন তারা।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছেন। দুজনের সমর্থকরাই একে অন্যকে প্রকাশ্যে অগোচরে গালমন্দ করে সময় কাটান বলেও জানা যায়। ফলে এদের দুজনের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে অপরজন তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবে না বলেও খবর ছড়িয়েছে। আর তার জন্য চরম মাশুল গুনতে হতে পারে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টকে। যা তারা চাইবেন না।

সূত্র মতে, এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী অন্যান্যরা হলেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি ও নাসিকের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, সাবেক ছাত্রদল নেতা এমএইচ মামুন, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রাফিউদ্দিন রিয়াদ। যাদের কাঁধে এই আসনের দায়িত্ব উঠার সম্ভবনা একদমই ক্ষীণ।

অন্যদিকে, একজন সংগঠক হিসেবে এসএম আকরামের কিছু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো গুণাবলী আছে বলে মনে করছেন জেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যে কারণে তার কাঁধে এই আসনের দায়িত্ব উঠলে তিনি বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এই দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে তাদের এক কাতারে নিয়ে আসার সামর্থ্য রাখেন বলে মনে করছেন সকলে। এছাড়া বিগত উপ নির্বাচনে আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও ঘাম ঝড়িয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমানের। আর এবার যদি ধানের শীষের কান্ডারী হন তাহলে তার বাজিমাতের সম্ভাবনাও দেখছেন অনেকে। এ সকল কারণের বিবেচনায় জেলার রাজনৈতিক মহল হরহামেশাই বলছেন মনোনয়ন দৌড়ে ছিটকে পরতে পারেন আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর