rabbhaban

মনোনয়ন সংগ্রহে ওলট পালট নৌকার দাবিদাররা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
মনোনয়ন সংগ্রহে ওলট পালট নৌকার দাবিদাররা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাবী ছিল নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই নৌকা প্রতিক দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রায় বছর দুয়েক আগে থেকেই তারা আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের দাবীতে বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। একই সাথে নৌকা প্রতিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীও মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু এসকল মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে অনেকেই দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহে ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের সাথে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের জোটবদ্ধ নির্বাচন চলে আসার কারণে দীর্ঘকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করে আসছে। আর এই প্রার্থীকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে।

গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ এর সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং তারা দুজনেই এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একটি অংশ নারায়ণগঞ্জের কোন আসনেই জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে রাজী না। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তারা কোনভাবেই ছাড় দিতে রাজী না। তাদের অভিযোগ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লাঙল প্রতিকের এমপি থাকায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দ্বারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত ও অবেহেলিত হয়ে আসছেন।

ফলে তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ মনোনয়ন ফরম বিক্রয় করা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে শুরু করেন ও জমা দেন।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার মালা, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল পত্মী নাহিদা বেগম।

তবে এই চারজনের মনোনয়ন সংগ্রহ করা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ এদের মধ্যে খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং একই আসনে নৌকা প্রতিকের দাবিদার ছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন সংগ্রহ করার সময় তিনি একসাথে দুইটি আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সেগুলো হলো নারায়ণঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন। খোকন সাহা নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে গেলেন। যা আগে থেকে নেতাকর্মীদের জানা ছিল না।

এদিকে অ্যাডভোকেট খোকন সাহার রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন না। তিনি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শুরু থেকেই বিভিন্ন সভা সমাবেশে খোকন সাহার পক্ষে মনোনয়নের দাবীর সাথে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন সংগ্রহের সময় হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করলেন।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করাকালিন সময় কখনই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী কিংবা প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দেননি। কিন্তু মনোনয়ন সংগ্রহের সময় হঠাৎ করেই হোসনে আরা বাবলী নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন। ফলে বিষয়টি অনেকেরই কাছে আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছে।

একই জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল পত্মী নাহিদা বেগম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যা আগে কখনও আলোচনা হয়নি কিংবা প্রচার প্রচারণাতেও নাহিদাকে দেখা যায়নি। সকল নেতাকর্মীদের জানা মতে, শহীদ বাদল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার সময় হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উদয় হলেন বাদল পত্মী নাহিদা। যে আসনের সংসদ সদস্য ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হচ্ছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। যার ঘনিষ্ট বন্ধু ও সহচর হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর