rabbhaban

তৎপরতায় ইঙ্গিত মনোনয়ন পাচ্ছেন শামীম ওসমান


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার
তৎপরতায় ইঙ্গিত মনোনয়ন পাচ্ছেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্বাচনী আবহে সবার আগে এগিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান। তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই নিজ আসনে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। মনোনয়ন কিনতে বা জমা দিতে ধানমন্ডি কার্যালয়ে উপস্থিত হননি স্বশরীরে। বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান আর এলাকায় এলাকায় পথসভা করে ব্যাস্ত রাখছেন নিজেকে। তার সহকর্মীদেরও যেন দম ফেলবার সময় নেই। এই আসনের অন্যান্য সকল প্রার্থীর তুলনায় তার তৎপরতা যথেষ্ট লক্ষণীয়। তার এমন কার্যক্রমে ক্রমেই পরিষ্কার হচ্ছে যে ৪ আসনে শামীম ওসমানই পেতে যাচ্ছেন নৌকার কান্ডারী।

বেশ কিছুদিন ধরেই শামীম ওসমান তার নিজ আসনে চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ ও কর্মীসভা। এ কয়েকদিনে ফতুল্ল¬া ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মীসভা করেছেন তিনি। স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে চলমান এই গনসংযোগে জনসমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন ব্যাপক ভাবে। বিগত ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নিজের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিচ্ছেন স্থানীয়দের নিকট। এই আসনকে নিয়ে নতুন করে নিজের পরিকল্পনাও জানাচ্ছেন সকলকে। তার আত্মবিশ্বাস আর তৎপরতা দেখে আওয়ামীলীগ নেতারাও প্রায় নিশ্চিত তার মনোনয়ন নিয়ে।

মূলত প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে অগ্রিম ভাবেই গ্রীণ সিগনাল পেয়ে থাকেন। নিজেদের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে চলে জোরালো লবিং। তারই অংশ হিসেবে শামীম ওসমানের মনোনয়ন নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে। একই আসনের আওয়ামীলীগের অন্যান্য প্রার্থীরা রয়েছেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। প্রার্থীদের সুযোগ থাকার পরেও তেমন কোন প্রচারণা করতে দেখা যায়নি তাদের।

সূত্রে জানা যায়, এই আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী শামীম ওসমানকে টপকে মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। জনসমর্থনেও রয়েছেন যথেষ্ট পিছিয়ে, তাই মনোনয়ন নিশ্চিত না করে অন্যান্য প্রার্থীরা মাঠে নামার সাহস পাচ্ছেন না।

শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইতোমধ্যে ২ বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে এই আসনে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন বলে দাবী করেন তিনি। এছাড়া নতুন করে ডিএনডি বাধের সমস্যা নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন নিজ উদ্যোগে। বর্তমানে পুরো ডিএনডি প্রজেক্ট সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে সংস্কার চলছে। এছাড়া ফতুল্ল¬া সিদ্ধিরগঞ্জের অনেক রাস্তাঘাট নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। তার এমন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের কারণে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বিগত সারাহ বেগম কবরীর তুলনায় সবচেয়ে বেশী দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা গেছে তার অধীনেই। তৃণমূল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও জনপ্রিয় তিনি। তাই মনোনয়নের শীর্ষে তার নাম উচ্চারিত হয় সর্বত্র।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের টিকেটে একেএম শামীম ওসমান ৭৩ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার ৮৯৯ ভোট। ২০০০ সালের ১৬ এপ্রিল দেশ বরেণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তোলারাম কলেজে জাহানারা ইমাম ভবন উদ্বোধনের পর মুক্তমঞ্চের সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজামী, খালেদা জিয়াকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ মুখ লিংক রোডে স্থাপন করা হয়। এসব ঘটনার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

সূত্র মতে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার ভোটযুদ্ধে নামেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান ও এই আসনের আরেক প্রভাবশালী নেতা গিয়াসউদ্দীন। শামীম ওসমান আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীকে অন্যদিকে গিয়াসউদ্দীন বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় গিয়াসউদ্দিন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩২৩ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়। আর শামীম ওসমান পেয়েছিলেন ১ লাখ ৬ হাজার ১০৪ ভোট। সে নির্বাচনে ১৯৩ আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করে। নির্বাচনে শামীম ওসমান পরাজিত হোন।

পরবর্তীতে শামীম ওসমান ২০০৮ সালে মনোনয়ন না পাওয়ায় এমপি নির্বাচিত হন সারাহ বেগম কবরী। শামীম ওসমান পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন শিল্পপতি শাহআলম। কিন্তু এ আসনে নির্বাচিত হয় আওয়ামীলীগের টিকেট পাওয়া চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর