rabbhaban

প্রচারণার আগে ‘অলস’ হয়ে গেলেন এমপিরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৬ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
প্রচারণার আগে ‘অলস’ হয়ে গেলেন এমপিরা

‘নৌকায় ভোট দিন, ধানের শীষে ভোট দিন, লাঙ্গলে ভোট দিন, কাস্তে ভোট দিন ও হাত পাখা মার্কায় ভোট দিনে’ ইত্যাদি স্লোগানে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের সংসদ সদস্যদের সব ধরনের উন্নয়ন কাজও। আর এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর প্রথম দফায় তফসিল ঘোষণার পরদিন ৯ নভেম্বর ইসি সচিবালয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ। সে জন্য আগামী শুক্রবারের মধ্যে জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশন আওতাধীন এলাকায় যেখানে পোস্টার, ব্যানার, গেট, তোরণ এবং আলোকসজ্জা আছে, সেগুলো অপসারণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী এবং পৌরসভার মেয়রদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কোনো প্রার্থী যদি তাঁর প্রচার উপকরণ অপসারণ না করেন তবে তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারবেন। এর আগ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে তফসিল আবারো পেছানো হলে নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফায় পোস্টার, ব্যানার, গেট, তোরণ এবং আলোকসজ্জাসহ সকল ধরনের প্রচারণার উপকরণ সরিয়ে নিতে দ্বিতীয় দফায় সময় বেঁধে দেয়। প্রথম দফা সময়ে সেসব সরাতে ব্যার্থ হওয়ায় ২য় মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করে হয়, পাশাপাশি ঘোষণা দেয়া হয় এসব ব্যানার না সরালে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে ইসি। এমন ঘোষণার পর পরেই নড়েচড়ে বসে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময় শেষ হচ্ছে রোববার ১৮ নভেম্বর রাত ১২ টা পর্যন্ত। সোমবার থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছেন ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে সম্ভব্য প্রার্থী রয়েছে বিভিন্ন দলের শতাধিক। যার মধ্যে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আওয়ামীলীগ। তাদের প্রার্থী ৬৭ জন। এছাড়া বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৪৪ জন নেতা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ ১০ জন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, সিপিবির, বাসদ, জাসদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ও বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, জাকের পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সরব রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহের আগে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা যাবে না। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ বিধান কার্যকর হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে এ আচরণবিধি মন্ত্রী, এমপি কিংবা সাধারণ প্রার্থী বা তার সমর্থক-সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে অর্থদ- ও সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদ-ের বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গেছে। এখন থেকে কেউ আর নির্বাচনী জনসভার প্রচার করতে পারবে না। ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ আগ থেকে আচরণবিধি অনুসারে প্রচার শুরু করতে পারবে।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায়, সরকারি সুবিদাভোগী অতিগরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তাদের নিজেদের বা অন্যদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সরকারি যান, সরকারি প্রচারযন্ত্রের ব্যবহার বা অন্যবিধ সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। এ ছাড়া নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহার করতে পারবেন না।

আচরণবিধি অনুসারে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোনো সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে প্রনীত আচরণ বিধিমালায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত করেছে ইসি। বিধিমালার ৯ (ক) তে বলা হয়েছে-নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া নির্বাচনী কার্যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর