rabbhaban

আ.লীগের পর এবার বিদায় হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
আ.লীগের পর এবার বিদায় হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা সমীকরণ। ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের পক্ষে হিসেব মিলানোর ক্ষেত্রে প্রার্থীতা বাছাইয়ে চলছে বিচার বিশ্লেষণ। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনেও দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করার ব্যাপারে চলছে নানা আলাপ আলোচনা। তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসব আলাপ আলোচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধরে নিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের পর এবার বিএনপিরও দলীয় প্রার্থী বিদায় হচ্ছে। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকেও সায় দিতে হচ্ছে।

সূত্র বলছে, টানা দুই মেয়াদ ধরেই ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবার এবং ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতার বাইরে থেকে যায় বিএনপি। আর এই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতার বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়ে। দলীয় কর্মসূচিতে তাদের স্থবিরতা চলে আসে।

তবে এবার আর ক্ষমতার বাইরে থাকতে চায় না বিএনপি। সেই লক্ষ্যে তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। যে কোন উপায়েই হোক তারা সরকারে যেতে চায়। তারা বিগত দিনের ব্যর্থতাকে ভুলে নতুন করে সরব হয়ে উঠার চেষ্টা করছেন। নিজেদের অবস্থানকে পোক্ত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন জাতীয় ঐক্য। ইতোমধ্যে তারা জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেছেন।

এদিকে গত ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। সেই তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সেই সময় পিছিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর।

সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় দেড় শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। একই সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান শরিক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম।

নির্বাচনী সমীকরণের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি ও অন্যান্য দলের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে এস এম আকরামের দিকেই সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। নিজেদের জয় নিশ্চিত করার জন্য এস এম আকরামকেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। আর বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও বৃহৎ স্বার্থে তাকেই ছাড় দিতে পারেন। কারণ এ আসনে এস এম আকরামের জনপ্রিয়তা অন্য সকলের চেয়ে এগিয়ে। সর্বশেষ অত্র আসনে উপ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও ঘাম ঝরিয়েছিলেন মহাজোটের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের।

ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর পর এবার বিএনপির প্রার্থীকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে দেশের মূলধারার প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপিকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ভিন্ন ধারার রাজনৈতিক দলকে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। আর এটা আওয়ামীলীগ ও বিএনপির জন্য অকল্যাণকর হিসেবে পরিণত হতে পারে।

এর আগে গত কয়েক মেয়াদ ধরেই জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের সাথে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের জোটবদ্ধ নির্বাচন চলে আসার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করে আসছে। আর এই প্রার্থীকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও স্বতস্ফুর্তভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ এর সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং তারা দুজনেই এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

এদের মধ্যে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় এই আসন থেকে উপনির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ফের জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তারই সহোদর সেলিম ওসমান। এবারের নির্বাচনেও তিনি জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আর তাকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর