rabbhaban

লাঙলে হার জেনেই চুপ নৌকার দাবিদার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার
লাঙলে হার জেনেই চুপ নৌকার দাবিদার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে আলাপ আলোচনায় সরগরম ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনটি। এখানকার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকা প্রতিকের দাবী নিয়ে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠে সরব ছিলেন। একের পর এক সভা সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তারা।

কিন্তু নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে লাঙল প্রতিকের সাথে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে বার্তা এসেছে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙল প্রতিক থেকে যাবে। ফলে লাঙল প্রতিকের সাথে তাদের হার হবে জেনেই চুপ হয়ে গেছেন নৌকা প্রতিকের দাবীদার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

জানা যায়, গত কয়েক মেয়াদ ধরেই জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের সাথে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের জোটবদ্ধ নির্বাচন চলে আসার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করে আসছে। আর এই প্রার্থীকে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও স্বত:স্ফুর্তভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ-৫ এর সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও লাঙল প্রতিকের প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং তারা দুজনেই এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

তবে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান মারা যাওয়ায় এই আসন থেকে উপনির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ফের জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তারই সহোদর সেলিম ওসমান। যাকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে আওয়ামীলীগের একটি অংশের দ্বিমত ছিল। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেই সেলিম ওসমানই জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু তাকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেনে নিতে রাজী নয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা নৌকা প্রতিকের দাবীতে প্রায় বছর দুয়েক আগে থেকেই সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন সভা সমাবেশ করে আসছেন।

এরই মধ্যে ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। সেই তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বললেও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সেই সময় পিছিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। একই সাথে মনোনয়পত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করেছেন ২৮ নভেম্বর। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ মনোনয়ন ফরম বিক্রয় করা শুরু করে।

তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে নৌকা প্রতিকের দাবী নিয়ে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১০ জন। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল।

এদিকে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবিদার এসকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চুপ হয়ে গেছেন। নির্বাচনী মাঠে তাদের কোন আলাপ আলোচনা শোনা যাচ্ছে না। নির্বাচনী আচরণবিধিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংসদীয় এলাকায় সাঁটানো তাদের ব্যানার ফেস্টুনগুলোও নেমে গেছে। ফলে আওয়ামীলীগের এসকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে একেবারেই মিইয়ে গেছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের বার্তা হচ্ছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙল প্রতিক থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার দাবীদার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বুঝে গেছেন, অনেক আগে থেকে নৌকা প্রতিকের দাবী জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হবে না। আগামীতেও তাদের লাঙল প্রতিকের পক্ষেই কাজ করতে হবে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলাবোধের দায়ে তাদেরকে বহিস্কার হতে হবে। কারণ আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, যাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। আর এজন্যই হয়ত নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চুপ হয়ে গেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর