rabbhaban

হঠাৎ দেশ ছেড়েছেন মোহাম্মদ আলী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার
হঠাৎ দেশ ছেড়েছেন মোহাম্মদ আলী

নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন আসলেই বেশ আলোচিত হয়ে উঠা বিএনপির এক সময়ের কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলী হঠাৎ করেই দেশের বাইরে গেছেন। ভোটের মাত্র ৪দিন আগে তার এ দেশত্যাগ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে যতবারই মোহাম্মদ আলী আলোচনায় এসেছেন ততবারই অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে।

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মোহাম্মদ আলী। তার প্রতি আস্থা রেখেছিল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতা। বিশেষ করে বিএনপির অনেকেই মোহাম্মদ আলীর কথায় নড়েচড়ে। কিন্তু হঠাৎ করে মোহাম্মদ আলীর দেশে না থাকার বিষয়টি নিয়ে বেশ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ক্রমশ দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ে গেছেন নেতাকর্মীরা।

কার্যত ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের পক্ষে মোহাম্মদ আলী আছেন কী না নাকি নাই সেটাও অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলছেন, মোহাম্মদ আলী মূলত এবারের নির্বাচনে মাঝখানের ভূমিকাতে ছিলেন। নিজের অবস্থানের কারণে বেশ কিছু ভোটারও ছিল তার নিয়ন্ত্রনে। কিন্তু হঠাৎ করে মোহাম্মদ আলীর দেশত্যাগ নিয়ে নিয়ে নেতাকর্মীরা বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, কার্যত বিএনপির লোকজনদের একা করে বিপদে ফেলে গেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-৫ তথা সদর ও বন্দর আসনে মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে আমার বেয়াই। ওনার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি দেশের বাইরে গেছেন শুনতে পেরেছি। আর নির্বাচনের সময়ে বাজারে অনেক কথাই বলা হয়। আর আমার বিশ্বাস মোহাম্মদ আলী যেখানেই থাকুক আমাদের সঙ্গেই আছেন, আমাদের সঙ্গে ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির সঙ্গেই থাকবেন।’

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে নানা দিক থেকে বেশ আলোচিত একজন মোহাম্মদ আলী যাঁকে বলা হয় ‘কিং মেকার’। বিএনপির একাংশের নেতাদের কাছে তিনি পরিচিত ‘পীর সাহেব’ হিসেবে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, অনেক রাজনীতিককে নেতা বানানো, উত্থানের পেছনে কাজ করা মোহাম্মদ আলী দেশের গুরুত্বপূর্ণদের একজন। বিগত ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করা, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদিন আগে গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপিতে যুক্ত করে মনোনয়ন বাগানো ও ভোটে জয়ী করানোর পুরো কারিশমা ছিল মোহাম্মদ আলীর।

জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী এক সময়ে সরাসরি বিএনপির রাজনীতি করতেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি এমপিও হন যেটার স্থায়ীত্ব ছিল অল্পদিনের। তাঁর হাত ধরে বিএনপির অনেক নেতার উত্থান। তবে বিএনপির রাজনীতি করলেও সব দলেই ছিল তার বেশ কদর। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সব দলের লোকজনদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থার ভরসা। সে কারণে বিএনপির অনেকের কাছেই তিনি ‘পীর সাহেব’ হিসেবেই পরিচিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর