শামীম ওসমান ও কিং মেকারে আতংক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
শামীম ওসমান ও কিং মেকারে আতংক

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও বিএনপির এক সময়ের কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলীর ভূমিকাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে দেখা দিয়েছে চরম আতংক। দুটি দলের নেতাদের মধ্যে আতংকের ছাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে ভোটাররা আছেন সবচেয়ে আতংকের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শামীম ওসমানের আশংকার বক্তব্য তাদের রীতিমত ভীত ধরিয়ে দিয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভোটগ্রহণ। আর এ নিয়ে এখন সর্বত্র চলছে নানা ধরনের কানাঘুষা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে অরাজকতা। নারায়ণগঞ্জে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও রয়েছে শান্ত।

এরই মধ্যে ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেছেন, পাকিস্তানের নাগরিক নারায়ণগঞ্জে গোপন বৈঠক করছেন। এটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। আগামী ২ থেকে ৩ দিন নারায়ণগঞ্জে কিছু একটা ঘটতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের নাগরিক নারায়ণগঞ্জ এসে গোপন বৈঠক করে। নাম্বারবিহীন গাড়িতে করে ওই বৈঠক হচ্ছে। এটা খুব আতংকের।

তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণতম বোম ব্লাস্ট হয়েছে। সেদিন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোম ব্লাস্ট করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশ নির্বাচন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একজন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তারেক জিয়ার নেতৃত্বে সেই পাকিস্থানি আইএসআই নেটওয়ার্ক একটি প্রক্রিয়া চালিয়ে একটি ঘটনা ঘটনানোর চেষ্টা করবে। সেটা হয়তো খুব দ্রুততার সাথে ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। আমাদের গত কয়েকদিনের তথ্যানুসারে পাকিস্তান এম্বাসি ও পাকিস্তানি নাগরিক নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আনাগোনা করছে। এবং বিভিন্ন স্থানে তারা গোপন বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের মাধ্যমে কোমলমতী মুসলমান মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে বড় ধরনের ঘটনা আরো অনেক জায়গায় ঘটানোর চেষ্টা করবে। তার মধ্যে একটি জায়গা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ।’

শামীম বলেন, আমাকেই নয় আরো অনেককেই টার্গেট করা হয়েছে। ২১আগষ্ট শেখ হাসিনা সহ আরো অনেককে যারা বোম ব্লাষ্ট করে মারতে চেয়েছিল তারাই এই নায়করা লন্ডনে বসে নাটাই উড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে একটা সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। যেখানে ধাকাধাক্কি পর্যন্ত হয়নি। সেখানে কাসেমীর মত প্রার্থী দেয়া হয়েছে একটা প্লট তৈরি করার জন্য। এতে যদি আমাদের কোন দোষ থাকে তবে যা ব্যবস্থা নেয়ার নিবেন।

এদিকে নির্বাচন আসলেই বেশ আলোচিত হয়ে উঠা বিএনপির এক সময়ের কিং মেকার খ্যাত মোহাম্মদ আলী হঠাৎ করেই দেশের বাইরে গেছেন। ভোটের মাত্র ৪দিন আগে তার এ দেশত্যাগ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের আগে যতবারই মোহাম্মদ আলী আলোচনায় এসেছেন ততবারই অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা বলছেন, মোহাম্মদ আলী মূলত এবারের নির্বাচনে মাঝখানের ভূমিকাতে ছিলেন। নিজের অবস্থানের কারণে বেশ কিছু ভোটারও ছিল তার নিয়ন্ত্রনে। কিন্তু হঠাৎ করে মোহাম্মদ আলীর দেশত্যাগ নিয়ে নিয়ে নেতাকর্মীরা বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, কার্যত বিএনপির লোকজনদের একা করে বিপদে ফেলে গেছেন তিনি।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে নানা দিক থেকে বেশ আলোচিত একজন মোহাম্মদ আলী যাঁকে বলা হয় ‘কিং মেকার’। বিএনপির একাংশের নেতাদের কাছে তিনি পরিচিত ‘পীর সাহেব’ হিসেবে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, অনেক রাজনীতিককে নেতা বানানো, উত্থানের পেছনে কাজ করা মোহাম্মদ আলী দেশের গুরুত্বপূর্ণদের একজন। বিগত ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করা, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদিন আগে গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপিতে যুক্ত করে মনোনয়ন বাগানো ও ভোটে জয়ী করানোর পুরো কারিশমা ছিল মোহাম্মদ আলীর।

জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী এক সময়ে সরাসরি বিএনপির রাজনীতি করতেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি এমপিও হন যেটার স্থায়ীত্ব ছিল অল্পদিনের। তাঁর হাত ধরে বিএনপির অনেক নেতার উত্থান। তবে বিএনপির রাজনীতি করলেও সব দলেই ছিল তার বেশ কদর। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি সব দলের লোকজনদের কাছে তিনি ছিলেন আস্থার ভরসা। সে কারণে বিএনপির অনেকের কাছেই তিনি ‘পীর সাহেব’ হিসেবেই পরিচিত।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর