rabbhaban

শামীম বাবু উল্টো সমীকরণে ভোটের লড়াই


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
শামীম বাবু উল্টো সমীকরণে ভোটের লড়াই

নারায়ণগঞ্জ জেলার দুটি আসনে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী সাংসদ ও আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুর আসন দুটিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের শামীম ওসমানের নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ধানের শীষের দুর্বল প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। যেকারণে তিনি অনেকা ফাঁকা মাঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম বাবুর আসনে ধানের শীর্ষ প্রতিকের হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বেশ দাপটের সাথে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকারণে ওই আসনটিতে প্রায়শই হামলার ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে করে উত্তপ্ততা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াইয়ে ভোটের সমীকরণ নানা নাটকীয়তার তৈরি করছে। এর মধ্যে কোন কোন আসনে ভোটের লড়াইয়ে সমীকরণ ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জ- ২ ও ৪ আসনের পরিস্থিতি অপরিবর্তনীয় রয়েছে। তবে ভোটের সমীকরণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ভোটের সমীকরণে নাটকীয়তা দেখা যেতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের আসনে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্র্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর রাজনীতিক অঙ্গনে অচেনা প্রার্থী হওয়ার ফলে প্রথম থেকেই তাকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে বলা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি দলীয় হেভিওয়েটদের বাদ দিয়ে এই আসনে উড়ে এসে জুড়ে বসা এই প্রার্থীকে নিয়ে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। এসব কারণে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করেছে। যেকারণে তিনি অনেকটা একা হয়েছে। এরপর অনেকটা খুঁড়ে খুঁড়ে চলছেন এই নেতা।

এদিকে সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর তার উপর ক্ষমতাসীনদের হামলা ও হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া তার ছোট ভাইকে নাশকতার জন্য টাকা বিলির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে থাকা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহম্মেদকে সম্মেলন শেষে আটক করে পুলিশ। যেকারণে এই প্রার্থী আরো বেকায়দায় রয়েছেন। এতে করে শামীম ওসমানের বিজয়ের পথ অনেকটা সুগম রয়েছে।

এসব কারণে শামীম ওসমান প্রথম থেকেই বেশ স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। পুরো উদ্যোমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরো পরিবার স্বজন সহ দলের নেতাকর্মীরা দিন রাত নির্বাচনী প্রচারণা করে যাচ্ছেন। যদি এর মধ্যে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী তার উপর হামলার অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ক্ষমতাসীনদের দিকে।

অন্যদিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামীম ওসমানের নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করলেও কাসেমীর পাশে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা এখনো দাঁড়ায়নি। এতে করে ভোটের সমীকরণে শামীম ওসমানের মাঠ একেবারে ফাঁকা রয়েছে।

সূত্র বলছে, ‘ঐক্যফ্রন্ট থেকে কাসেমীকে মনোনয়ন দেয়া হলেও বিএনপি দলটির তৃণমূল তাকে মেনে নেয়নি। তাছাড়া দলের কেউ তাকে চিনেনা। রাজনীতিক অঙ্গনে একেবারে নতুন নেতা হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এতে করে বিএনপি দলটির নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করেছে। যেকারণ তার নির্বাচনী প্রচারণায় লোকজন নেই বললেই চলে। এর ফলে তার পক্ষে ভোট অবস্থান একেবারে নাজুক অবস্থানে থাকবে। এতে করে শামীম ওসমান এই প্রতিদ্বন্দ্বীর ফলে বেশ জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। এতে করে অনেকটা জয়ের সহজ সমীকরণে এগোচ্ছে শামীম ওসমান।’

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের নজরুল ইসলাম আজাদ ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে। তবে তাদের আসনে ভোটের লড়াইয়ে তুলনায় মাঠে ময়দানে হামলা সংঘর্ষের লড়াই বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে করে এই আসনের নির্বচানের পরিস্থিতি শামীম ওসমানের আসনের তুলনায় একেবারে ভিন্ন চিত্র ধারণ করছে।

আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ও সাংসদ নজরুল ইসলাম ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসার কারণ সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্তিশালী একজন নেতা। যেকারণে তিনি বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের তার আসনে দাঁড়াতেই দিচ্ছেনা। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আজাদও কোন ভাবে এই আসনকে ছাড় দিতে নারাজ। তিনিও প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, যেভাবে আজাদ সেখানে টিকে আছেন সেখানে বাবুর বৈতরণী পার হওয়া হবে বেশ কষ্টকর। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে বদলে যেতে পারে চিত্র।

গত ১২ ডিসেম্বর বুধবার আড়াইহাজারের নারন্দি, ইলমন্দি ও থানা আওয়ামীলীগের অফিসের সামনে তিন দফায় নজরুল ইসলাম আজাদের গাড়ি বহরে এই হামলা করা হয়েছিল। ওই হামলায় একজন গুরুতর আহত সহ ১০ থেকে ১২ আহত হয়েছিলেন। ১৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নজরুল ইসলাম আজাদ তার গাড়ি বহর নিয়ে প্রচারণায় যাওয়ার পথে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে রোডে পুরিন্দা এলাকায় রাস্তায় ড্রাম ফেলে গতিরোধ করে হামলা চালানো হয়। এই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর সমর্থিত সাতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অদুদ মাহমুদ ও তার বড় ভাই আব্দুল কাদির। তাদের সাথে ৫০ থেকে ৬০ জনের মত কর্মী সমর্থকরা ছিলেন।

এরপর ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের প্রেরিত চিঠিতে নারায়ণগঞ্জে নবাগত পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে প্রত্যাহারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নিয়ে পানি অনেকদূর ঘোলা হয়েছে। এর ফলে এই আসনের ভোটের লাড়ইয়ের পাশাপাশি হামলা যুদ্ধের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আর ভোটের লড়াইয়ে কেউ কার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত হামলার এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সাংসদ শামীম ওসমান ও নজরুল ইসলাম বাবুর আসনে ভোটের লড়াইয়ে একেবারে ভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে ভোটের সমীকরণ; অন্যদিকে হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে সংঘর্ষের সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তবে দুটো আসনে একেবারে ভিন্ন চিত্র তৈরি হয়েছে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর