শেষ সময়ে স্তব্ধ বিএনপিতে উজ্জীবনি চমক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২০ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
শেষ সময়ে স্তব্ধ বিএনপিতে উজ্জীবনি চমক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই বিএনপি দলটি একেবারে নিশ্চুপ ছিল। দল ও জোট দল থেকে ধানের শীষের প্রার্থী দেয়া হলেও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা হামলা, মামলায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা একেবারেই করতে পারেনি। তার উপর দফায় দফায় আটক গ্রেফতার সহ হয়রানির ঘটনায় বিএনপি সহ শরীক দলগুলোর নেতাকর্মীরা একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে নির্বাচনী শেষ সময়ে এসে স্তব্ধ বিএনপি বেশ উজ্জীবিত হয়ে গণমিছিল করে রীতিমত চমক দেখিয়েছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ২দিন বাকি। এর মধ্যে ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শেষ দিন ছিল। প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপি দলটির নেতাকর্মী শরীক দলগুলোর নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে না পারলেও শেষ দিনে এসে শহরের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মিছিল করেছেন। এতে করে চারদিকে বেশ সাড়া পড়েছে।

জানা গেছে, নির্বাচনী বছরের শুরু থেকেই একদিকে বিএনপি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খাদেলা জিয়াকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের ধারাবাহিকভাবে হামলা, মামলার মধ্য দিয়ে বেশ কাবু করে ফেলে। এরপর যে কোন ইস্যুতে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলার ঘটনা ঘটছে। যেকারণে বিএনপি দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে অনেকটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ছত্রছায়ায় বিএনপি সহ জোট দলগুলো নির্বাচনে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এখনো মাঠে আছে। তবে সেই হামলা, মামলার চিরাচরিত চিত্র বিএনপি ও তাদের জোট দলগুলোর নেতাকর্মীদের মাঠেই নামতে দেয়নি। উল্টো ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে যেসব নেতাকর্মীরা প্রচারণায় মাঠে নেমেছে তাদেরকেও মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে করে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণা একেবারে স্তব্ধ হয়ে পড়ে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপর হামলা, মামলার চিত্র দেখা গেছে। নারায়ণঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী মনিরের পক্ষে পোস্টার টানানোর সময় আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দিয়ে উভয় পক্ষে মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ দেখা দেয়।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের গাড়ি বহর সহ তার নেতাকর্মীদের উপর কয়েক দফা হামলা চালায়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে তাকে ছাত্রলীগের নেতা মারধর করে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কাসেমীও তার উপরে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এছাড়া তার ছোট ভাই মোকতার হোসেনকে নশকতার জন্য টাকা বিলির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এমনকি তার সাথে থাকা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহম্মেদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এস এম আকরামের নির্বাচনী প্রচারণায় আলীরটেকে ক্ষমতাসীন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সমর্থক ও জাপা নেতা আলীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি নেতৃত্বে তার বাহিনীরা হামলা চালায়। প্রার্থী এস এম আকরামের বাসায় সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর সবুর খান সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে জেলা গণফোরামের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চুন্নুকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও তার দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে গ্রেফতার করা জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

এতে করে বিএনপি ও তাদের জোট দলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণার বদলে উল্টো স্তব্ধ হয়ে পড়ে। প্রচারণার শুরুতে যতটুকু মাঠে নেমেছিল এসব হামলা মামলার ঘটনায় ফের স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এতে করে বিএনপি দলীয় প্রচারণা অনেকটা থমকে যায়। তবে প্রার্থীরাও হাল ছাড়ার পাত্র নয়। তারা নেতাকর্মী শূন্য অবস্থায় প্রচারণা চালিয়ে যায়।

এদিকে দেখতে দেখতে নির্বাচনে সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে ২৭ ডিসেম্বর প্রচারণার শেষ দিন। যদিও ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮ টা পর্যন্ত প্রচারণা সময় আছে। তবে দিনের হিসেবে ২৭ ডিসেম্বরকে শেষ দিন ধরা চলে। এই শেষ দিনে স্তব্ধ হয়ে যাওয় বিএনপি দলটি ফের উজ্জীবিত হয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মিছিল করে রীতিমত চমক দেখিয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের জয়ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত করে রেখেছে দলের নেতাকর্মীরা।

শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থান সহ পাড়া মহল্লাতে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা হামলা, মামলার ভয়কে উপেক্ষা করে নির্বাচনী প্রচারণা নেমেছে। স্লোগানে স্লোগানে মিছিল করে পুরো শহর মুখরিত করে রেখেছে। আর তাতে করে এই নির্বাচনের ধানের শীষ অর্থাৎ ঐকফ্রন্ট দলটি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে তা জানান দিয়ে যাচ্ছে। কারণ নির্বাচনে মিছিল মিটিং ও সমাবেশে মধ্য দিয়ে সেই দলের অবস্থান জানান দেয়া হয়। তবে বিএনপি দলটি হামলা মামলার কারণে মিছিল মিটিং সেভাবে করতে পারেনি। তবে শেষ সময়ে দলের নেতাকর্মীরা সকল ভয়কে উপেক্ষা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র বলছে, ‘শেষ সময়ে এসে বিএনপি দলটি উজ্জীবিত হওয়ার ফলে রীতিমত সবাইকে চমক দেখিয়েছে দলটি। এর আগেও দলটি এভাবে নানা চমক দেখিয়েছে। এই বিষয়গুলো অন্য দিকে ইঙ্গিত করছে। সেসব ইঙ্গিতে ভোটের লড়াইয়ে নানা চমক দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি দলটির নেতাকর্মীদের এই ঘুরে দাঁড়ানোটা তাদের উজ্জীবিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করছে। আর তাতে করে বিএনপি দলটির যে এখনো ভোটার সমর্থক রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ইতোমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বোবা ভোটের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। শেষ সময়ে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত হয়ে গণহারে মিছিল করার বিষয়টি সেই বোবা ভোটের বিষয়টিকে আরো জোড়ালো করে তুলছে। আর তাতে করে উজ্জীবিত বিএনপি দলটি শেষ সময়ে এসে চমক দেখাতে পারে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর