rabbhaban

ওয়ানম্যান ওয়ান পার্টি কাসেমীর বিদায়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, শুক্রবার
ওয়ানম্যান ওয়ান পার্টি কাসেমীর বিদায়

মনির হোসাইন কাসেমী হেফাজত ও জমিয়তের নেতা। তার দল জমিয়তে ইসলাম ২৩ দলীয় ঐক্যজোটের শরিক দল। আর এই দল যে কতটা দায়িত্বহীন তা তাদরে জোটের কর্মসূচিতে উপস্থিত দেখলেই বুঝা যায়। একটি দল থেকে এক জনই উপস্থিত হয়েছেন। আর সেই উপস্থিত লোকটি হচ্ছেন প্রার্থী নিজেই মনির হোসেন কসেমী। ওয়ান ম্যান-ওয়ান পার্টি এর এক ধাপ এগিয়ে বলা যায় ওয়ান ম্যান-ওয়ান পার্টি-ওয়ান ক্যানডিডেট।

এ অবস্থায় শুক্রবার ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় শেষ হয়েছে প্রচারণা। আর এ পর্যন্ত একাই তিনি করেন প্রচারণা। শেষতক তিনি বিদায় নিয়েছেন বেশ লজ্জাজনকভাবে। রাজনৈতিক ময়দানে আর নেই তিনি। নেই বোটের ময়দানেও।

গত ২১ ডিসেম্বর নির্বাচনী সফর করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা। সেই দলের সমাবেশে সেই দলের প্রতীকের প্রার্থী একা গিয়ে উপস্থিত হন কাশেমী। সমাবেশ এর কোন ফল তার নির্বাচনী এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফল ঘরে তোলার জন্য কোন রকম প্রচেষ্টা ছিল না কাসেমীর।

অন্যান্য প্রার্থীরা তাদের নেতাকর্মী, দলবল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। মহাসচিবসহ ঐক্য ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারাও এসেছেন। তাদের বক্তব্য এবং আবেদন উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে একটি জাগরণী সৃষ্টি হয়েছে। যেই জাগরণ পৌছে দিয়েছে নির্বাচনী আসন এবং ভোটারদের মধ্যে। এই জাগরণী ঢেউ ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি করেছে আলোচনার যা ভোটের দিন পর্যন্ত নিয়ে যাবে।

এই জন্যই অন্যান্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থক, নেতাকর্মীদের নিয়ে আসার প্রচেষ্টায় ছিলেন এবং এনেছেন সমাবেশে। তাদের নিজেদের ভোট বাড়ার এবং ভোটের মাঠে আলোড়ন সৃষ্টি করতেই তারা এই প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অথচ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমী কোন লোকবল বা বিএনপির নেতাকর্মী, এমনকি তার দল জমিয়তের কোন নেতাকর্মী পর্যন্ত থাকতে দেখা যায়নি।

নেতাকর্মী বহীন নেতা হিসেবে একাই মঞ্চে উঠে তিনি এক কোনে একাকী ছিলেন। তার সঙ্গে অন্য কোন নেতাকর্মীকে দেখাতে পাওয়া যায়নি। এমন নিধিরাম সরদার কাসেমীকে মনোনয়ন দেয়ায় দলের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। এ কারনেই মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ব্যারিষ্টার পারভেজ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি রুহুল আমিন সিকদার, জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম কাউকেই উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। এছাড়া ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসসহ থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাউকেই দেখা যায়নি। তাদের অনুগামীদেরও মাঠে হাজির হতে দেখা যায়নি। এছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, আবদুল হাই রাজু, যুগ্ম  সম্পাদক লুৎফর রহমান খোকা, এম এ আকবর, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না, মাসুকুল ইসলাম রাজীব, সহ সাংঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেনও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু তাদের কাউকেই দেখা যায়নি মির্জা ফখরুলের ওই সমাবেশে যোগ দিতে।

ওই সমাবেশে জেলার অন্যান্য স্থানের অনেকে উপস্থিত হলেও সেখানে দেখা যায়নি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) এলাকার বাসিন্দা বেশীরভাগ বিএনপি নেতাকর্মীদের।

এছাড়া পরে মারধরের অভিযোগে কাশেমী সংবাদ সম্মেলন করলেও সেখানে দেখা যায়নি সঙ্গে কাউকেই। জেলা বিএনপির সহ সভাপতি পারভেজ আহমেদ সঙ্গে থাকলেও পরে তিনি গ্রেফতার হন।

এদিকে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন অত্র আসনে বিএনপির দুই হেভীওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও শিল্পপতি শাহআলম। অত্র আসনে আওয়ামীলীগের নৌকার মাঝি মনোনীত হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। যে কারণে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি নেতাকর্মী তথা নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল অত্র আসনে বিএনপির দুই হেভীওয়েট প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও শিল্পপতি শাহআলমের মধ্যে যে কোন একজনই পাচ্ছেন ধানের শীষের মনোনয়ন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সহসভাপতি ব্যারিষ্টার পারভেজ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি রুহুল আমিন সিকদার। মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকরা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি শাহআলম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এই দুইজনকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

তবে মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন গিয়াসউদ্দিন। এদিকে শাহআলম ও মামুন মাহমুদকে দলীয় মনোনয়নের প্রাথমিক ফরম দেয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারনা ছিল শেষ পর্যন্ত শাহআলমই পাচ্ছেন ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন। কারণ গিয়াসউদ্দিনকে ধানের শীষের মনোনয়ন না দেয়ায় সবার মধ্যে এই ধারনা ছিল শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন শাহআলম। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতোই গত ৮ ডিসেম্বর রাতে ধানের শীষের মনোনয়ন বাগিয়ে নেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির সভাপতি মুফতী মনির হোসেন কাসেমী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর