rabbhaban

কাশেমী নিখোঁজ! ভোট কেন্দ্রে থাকছে না এজেন্ট


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:২৭ পিএম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার
কাশেমী নিখোঁজ! ভোট কেন্দ্রে থাকছে না এজেন্ট

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমীকে খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ৩০ ডিসেম্বর রোববার ভোট গ্রহণের দিন থাকলেও প্রার্থীর কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও এর আগের দিন শুক্রবার তিনি ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি। সেদিন তাঁকে দেখতে ছুটে যান জেলা পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, রোববার কাশেমী ভোটে থাকছেন না এটা নিশ্চিত। কারণ তিনি কোন কেন্দ্রে এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা খুব হতাশ। তারা এ ঘটনায় বেশ বিমর্ষ।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ২৯ হাজার ৬শ’ ৩৭ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৪শ’ ৬২জন। মোট ভোট কেন্দ্র সংখ্যা হচ্ছে ফতুল্লায় ১৫৫ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ ৬১। এর মধ্যে ঝূকিপূর্ণ কেন্দ্র ফতুল্লায় ১১৩, সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৮টি এবং ৭ টি সিদ্ধিরগঞ্জে, ফতুল্লায় ৪২ টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে ২৮ ডিসেম্বর শনিবার ছিল নির্বাচনের আগের দিন। বাকি প্রার্থীরা মূলত এদিন তাদের এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের তালিকা তৈরি নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাশেমীর পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ না নেওয়ায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কাশেমীর সঙ্গে শুরু থেকে প্রচারণায় থাকা নেতারাও এখন আর সঙ্গে নাই।

ক্ষুব্ধ নেতারা কাশেমীর আচরণে দলের হাই কমান্ডকে দায়ী করছেন। তাদের মতে কাশেমী বিএনপির হাই কমান্ডকে চরম শিক্ষা দিয়েছেন। তারা এমন কাশেমীর মত প্রার্থী আর কোনদিন যেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দেয়া না হয়ে তার জন্য উদাহরণ হিসেবে রেখেদিবে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন, কাশেমী বিএনপির প্রতীককে অবমূল্যায়ন করেছে। ধানের শীষ প্রতীকের উপর কালিমা লেপন করেছে। এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কাশেমী মূলত আওয়ামী লীগের বি টিম হিসেবে কাজ করেছে। তাই তিনি এমন অসুস্থতার নাটক সাজিয়েছে। নির্বাচনের আগে শুনতাম কাশেমী নৌকার ডামি প্রার্থী। কাশেমীকে প্রার্থী হওয়ার পেছনে প্রচুর টাকা দিয়েছেন নৌকার প্রার্থী। এখন সবই দিবালোকের মত সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যা রটেছে তার সবটুকুই ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

এই আসনে বিএনপির নেতা শাহআলম, সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন এবং জেলা সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের মধ্যে বিএনপি দুই জনকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। বাদ পরেন দীর্ঘ দিনে মাঠে অনুপস্থিত থাকা সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে শাহআলমকে মনোনয়ন দিতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। আর সেই বিপত্তিতে জোর প্রচেষ্টা চালায় জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম। বিভিন্ন ভাবে লবিং আর গ্রুপিং করে শেষ পর্যন্ত দলের অন্যতম নেতা শাহআলমকে বাদ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক ছিনিয়ে নেয় মনির হোসাইন কাসেমী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর