rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে ফলাফলের আগেই দাপুটে জয় নৌকা ও লাঙ্গলের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার
নারায়ণগঞ্জে ফলাফলের আগেই দাপুটে জয় নৌকা ও লাঙ্গলের

ভোট শেষ হওয়ার কথা বিকেল ৪টায়। তার পরে ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে ফলাফল। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর রোববার সকাল ৮টার পরেই ক্রমশ পরিস্কার হতে থাকে ভোটের চিত্র। পুরো মাঠ দখল করে নেয় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতাকর্মী সঙ্গে এজেন্টদের।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০ দলের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী প্রার্থী ও সাংসদ শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী করে ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামানো হয়। অথচ এই কাসেমীকে বিএনপি দলের তৃণমূলের কেউ চিনেনা। আর সেটার প্রতিফলন ঘটে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন। ছিল না কোন এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট। যেকারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মহাজোটের প্রার্থী শামীম ওসমানের জয় সুনিশ্চিত প্রায়।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে ভোটের লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর মুখোমুখি হতে হন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনির। এই আসনটিতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারকে বাদ দিয়ে কাজী মনিরকে প্রার্থী করা হয়। রোববার ভোট শুরুর পর থেকে ছিল না বিএনপির এজেন্ট।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ভোটের লাড়াইয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের শরীক দল জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমানে মুখোমুখি হন বিএনপি দলটির শরীক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম। এই আসনটিতে প্রথম থেকেই আকরামের লোকজনেরা হামলা, মামলার শিকার হয়েও মাটি কামড়ে নির্বাচনী মাঠে পড়ে ছিল। কোনভাবেই নির্বাচনী মাঠ ছাড়েনি। রোববার সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়নি বিএনপির এজেন্টদের। আর অনেক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। তার সমর্থকেরা জানিয়েছেন, ৩০ ডিসেম্বর সকাল থেকেই উপজেলার সকল কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকজন অবস্থান করেছেন। সেখানে বিএনপির কোন লোককে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মান্নানের অনুগামী সেলিম হোসেন দিপু নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘শনিবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকাতে বিএনপির এজেন্টের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। তারা স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন যাতে কেন্দ্রে না যায়। আর রোববার সকাল থেকেও চলছে হুমকি। অনেক এলাকার কেন্দ্র দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ভোটের লড়াইয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলীয় বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এই আসনে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোট গ্রহণ শুরুর পরেই কেন্দ্র দখল করে নেয় আওয়ামী লীগের লোকজন।

ফলে জেলার ৫টি আসনে মহাজোটের প্রার্থীরা প্রায় সবকটি আসনে জয়ের পথে এগোচ্ছে। এখন পর্যন্ত ভোটের সমীকরণের হিসেবে ক্ষমতাসীন দল মহাজোট অনেকটা এগিয়ে আছে। আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পিছিয়ে পড়ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর