rabbhaban

প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় বিজয় চেয়েছিলেন আকরাম


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৮ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার
প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় বিজয় চেয়েছিলেন আকরাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিজয় চেয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরাম। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এ মনোবাসনার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

এসএম আকরাম বলেন, সরকার গঠনে সংসদের ১৫১টি আসন প্রয়োজন হয়। আরেকটু বেশি আসন পেলে ভাল। আরো বেশি সংখ্যক হলে আরো ভাল। যদি গত বারের মত সংবিধান ইচ্ছেমত কাটাছেঁড়া করতে চায় তাহলে ২২০টি আসন নিলেই হয়। ৩০০ আসনে বাকি থাকে ৮০টা। আরতো কেউ নাই ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া। আশিটা অন্তত ছেড়ে দিবে, সেই আশিটার মধ্যে আমিওতো থাকতে পারতাম সংসদ সদস্য হিসেবে।

আওয়ামী লীগের সাবেক জেলা আহ্বায়ক আকরাম বলেন, এই ১০০ বা ২২০টার যে তালিকা যে দুইটি তালিকা হয়েছে। দুই জায়গায় আমার নাম থাকতে পারতো। অথবা আকরাম সাহেবকে কোনভাবেই সংসদে আসতে দিব না। সেই ব্যবস্থা করো। অথবা আকরাম সাহেব আসুক। যদি প্রধানমন্ত্রী চাইতো আরে আকরাম সাহেবের মত ১০/১২/২০ জন আসলে কী আর ক্ষতি হবে। সরকারতো উল্টিয়ে ফেলতে পারবে না। সেই হিসেবে মনে মনে ক্ষিন আশা ছিল। আমিতো একজন শিক্ষিত ভদ্র লোক বৃদ্ধ লোক। আগেতো আওয়ামী লীগের এমপি ছিলাম। হয়তো বলবে ঠিক আছে ৮০টার মধ্যে আসুক। তারপরও শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানরা আমাকে যেতে দিবে না। তাই হয়েছে। এখন শেখ হাসিনা যদি বলে তোমাদের কী বলে ছিলাম। তখন ওসমানরা বলবে কী করবো, অনেক চেষ্টা করেছি। উনিতো ভোট পায় নাই। আমরাতো ভোটের ভেতরে কিছু করি নাই। আমার কথা বাদ দিলেও ৮০ এর হিসেবে ৭৯টা তো আসতো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আকরাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করেনি। কোন কোন কেন্দ্রে তারা ক্ষমতাসীনদের সহায়তা করেছে। বিভিন্ন অজুহাতে পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। হয়রানি করেছে। যাদের ঢুকতে দিয়েছে তাদেরও একটা সময় পরে বের করে দিয়েছে। উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ সকল কেন্দ্রে গিয়ে এজেন্টদের এবং ভোটারদের বের করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সিল মারতে সহায়তা করেছে। ব্যালট শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা ভোট নেয়া বন্ধ করেছে। আবার কালি দিয়েছে ব্যালট দেয়নি এমন ঘটনা ঘটেছে। তাদের সামনে সিল দিতে বাধ্য করেছে ভোটারদের। তারাও সিল দিয়েছে। রাতে বস্তায় ভরা সিল মারা ব্যালট সুবিধা জনক সময়ে বাক্সে ভরেছে। আমার এজেন্টতো ছিল না। ১৭১টা কেন্দ্রের মধ্যে ১৬০টাই এমন হয়েছে। তবে গণতন্ত্রের আন্দোলন চলমান থাকবে। আমরা যতক্ষন পর্যন্ত সফল না হবো ততক্ষন পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ নাই। আমি ৫আসনে পুননির্বাচন দাবী করছি।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে ১৭১ ভোটকেন্দ্রে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পেয়েছেন ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪৫ ভোট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা সাবেক এমপি এস এম আকরাম পেয়েছেন ৫২ হাজার ৩৫২ ভোট।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ২শ’ ১৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪শ’ ২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র সংখ্যা হচ্ছে সদরে ৭৬টি, বন্দরে ৯৫টি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর