rabbhaban

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিজয়ী হওয়ার প্রার্থী ছিলেন তৈমূর আলম


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:৪১ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, সোমবার
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিজয়ী হওয়ার প্রার্থী ছিলেন তৈমূর আলম

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ‘বিজয়ী হওয়ার মত প্রার্থী’ ছিলেন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩১ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে গণভবনে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদনির্বাচন দেখতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা বিএনপির প্রার্থীতা বাছাই প্রসঙ্গে তৈমূর আলম খন্দকারের নাম উচ্চারণ করে নিজের ওই মতামত জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘যে বেশি টাকা দিতে পেরেছে সেই মনোনয়ন পেয়েছে এবং এ কারণে তারা তাদের অনেক জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এমন অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ‘আমি উদাহরণ দিয়ে দেখাতে পারি, ঢাকার ধামরাইয়ে জিয়াউর রহমান তাদের যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম তিনিও তাদের বিজয়ী প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁকেও  মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সিলেটে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি।’

এখানে উল্লেখ্য যে, এর আগে এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু তাকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। প্রাথমিক বাছাইপর্বে রাখলেও চূড়ান্ত পর্যারে গিয়ে তৈমূর আলম খন্দকারকে রাখা হয়নি। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীদের মাঝেই ক্ষোভ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি থেকে সমর্থন দেয়া হয়েছিল। তিনিও বেশ জোরালোভাবেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনী মাঠে রাত দিন পরিশ্রম করে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। শুধুমাত্র ভোটগ্রহণ বাকী ছিল। সকলেরই ধারণা করে নিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই হবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। কিন্তু ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে অনেকেরই মন্তব্য ছিল অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে গোসল ছাড়াই কোরবানী দেওয়া হয়।

তারপরেও তৈমূর মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েননি। তিনি সবসময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশেই ছিলেন। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে ও দলীয় কর্মসূচিতে অ্যাাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারই সবার আগে এগিয়ে গেছেন।

সূত্র বলছে, ২০০৯ সালর জুন থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে আসীন ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। জেলা বিএনপির সভাপতি হলেও নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরের মূলধারার দু’টি কমিটিই ওই সময় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বেই গঠিত হয়েছিল। অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সেবারও তিনি মনোনয়ন পাননি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ার কারণে তৈমূরের বিরোধী হিসেবেই ছিলেন কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। যে কারণে তারা দুইজনই তৈমূরকে জেলার রাজনীতি থেকে মাইনাস করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে থাকেন দীর্ঘদিন ধরেই। তাদের সেই চেষ্টা সফল হয় ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে। ওই আংশিক কমিটি দু’টিই এসেছে মূলত কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের হাত ধরেই। এছাড়া আংশিক কমিটিতে বেশীরভাগ পদেই এসেছে তাদের অনুগামী নেতারা। ওই আংশিক কমিটিতে তৈমূর অনুগামীদের তেমন একটা মূল্যায়ন করা হয়নি। যেকারণে পদচ্যুত হয়ে তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে অনেকটা ছিটকে পড়ার অবস্থানে ছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ব্যর্থতার কারণে আবারো লাইমলাইটে আসেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সর্বশেষ অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র। তবে এতে জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই কর্ণধার কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম যে নাখোশ সেটা তাদের কর্মকান্ডেই পরিস্ফুট হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। তবে তৈমূরের সঙ্গে একত্রে কর্মসূচী পালনে জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই কর্ণধারের যে অনীহা সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে। মূলত তারা চান না জেলার রাজনীতিতে তৈমূর আবার ফিরে আসুক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈমূরকে মনোনয়ন না দেওয়া হলেও পরবর্তীতে গত ২১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এসে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৫টি আসনের দায়িত্ব তার উপরেই দিয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তৈমূরকে অবজ্ঞা করা হলেও বিগত দিনে তিনি সহ তার ছোট ভাই মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে বেশী কারাভোগ করতে হয়েছে রাজনৈতিক মামলায়। মামলার আসামী তৈমূরের ভাগ্নে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুর রহমান রশোও।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর