আকরামে অকৃতজ্ঞ আইভী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার
আকরামে অকৃতজ্ঞ আইভী

নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা ও সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এস এম আকরাম ২০০৩ ও ২০১১ সালের সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র পদে নির্বাচিত করতে তার অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি মেয়র আইভীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী করতে কাজ করলেও আইভী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করতে মাঠে নামেনি। আকরাম তাঁর জন্য ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে দল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেও মেয়র আইভী সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আকরামের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেনি। নাগরিক ঐক্যের ভেতরেই হঠাৎ করে এ প্রশ্নটি বেশ আটসাটভাবে জেগে উঠতে শুরু করেছে।

এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে মেয়র আইভীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে নির্বাচনী মাঠে কাজ করারটা বেশ দুষ্কর একটি কাজ। আর তাকে আওয়ামীলীগের মত বড় দলকে ত্যাগ করার বিষয়টিও বেশ বিধ্বংসী। কিন্তু সেই কৃতজ্ঞতার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মেয়র আইভী। তিনি অনেকটা অকৃতজ্ঞের মত নিজের স্বার্থ হাসিল শেষে আকরামের পথ থেকে সরে দাঁড়ান। আর দলীয় পদ পদবী রক্ষার্থে আকরামের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামেনি।

জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। সেখানে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মোমবাতি প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে লড়ে জিতে যান আইভী যাঁর প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির ওই সময়ের নেতা নুরুল ইসলাম সরদার। ওই নির্বাচনে আইভীর পক্ষে মুখ্য ভূমিকাতে ছিলেন আকরাম। আবার ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবরের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জেলার আহবায়ক পদে থেকেও দল সমর্থিত শামীম ওসমানকে বাদ দিয়ে আইভীর পক্ষে মেয়র নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের প্রধান হিসেবে কাজ করেন। ভোটের পরদিন আকরাম আওয়ামী লীগ ও পদ দুটি হতেই পদত্যাগ করে নাগরিক ঐক্যে যোগ দেন।

৯ মার্চ সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের থানা পুকুর পাড়ের লয়েল ট্যাংক রোডে নিজ বাড়িতে নাগরিক ঐক্যের ওই কমিটি গঠনের সভায় এস এম আকরাম বলেন, ২০১১ এর নির্বাচনে আমাকে বলা হয়েছিল শামীম ওসমান যাতে মেয়র হতে পারে সেভাবে কাজ করেন। কিন্তু আমি সরাসরি সেটি প্রত্যাখান করে দিয়েছি।

২০০৩ সালের সেই পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, তখন অনেক বড় বড় নেতারাও পালিয়ে যায়। তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিন চৌধুরীকে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুরোধ করেছিলাম। মতিন চৌধুরীকে বললাম একটা ফেয়ার নির্বাচনের জন্য। তিনি আমার কথা বুঝলেন। তিনি কথা দিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, কোনো কারচুপি হবে না। তিনি তার কথা রেখেছিলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আইভী তখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন।

এদিকে সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরার ধানের শীষ প্রতীক থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হেরে যায়। তবে সেই নির্বাচনে তার পক্ষে মেয়র আইভী নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামেনি। এমনকি তাকে সমর্থনও দিতে দেখা যায়নি। এছাড়া বিগত দিনের সেই বাম দলগুলো তাকে সমর্থন করেনি।

বর্তমান মেয়র আইভীরকে সমর্থন করায় ও এমপি শামীম ওসমানকে সমর্থন না করায় আকরামকে আওয়ামীলীগ দল থেকে পদত্যাগ করতে হয়। আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি আকরার দীর্ঘদিন জেলার সভাপতি পদে থাকলেও ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে মেয়র আইভীকে সমর্থন করলে দল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু সেই কৃতজ্ঞতার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন মেয়র আইভী। তিনি এস এম আকরামের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেননি। এতে করে মেয়র আইভী অনেকে অকৃতজ্ঞ বলে মনে করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর