মহানগর আওয়ামীলীগে অন্তর্দ্বন্দ্ব


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার
মহানগর আওয়ামীলীগে অন্তর্দ্বন্দ্ব

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। ২ মার্চ এমপি শামীম ওসমানের ডাকা সমাবেশে মহানগর আওযামীলীগের একাংশ যোগদান করেনি। অন্যদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে দলটির সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা কামনা করে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠানের ওসমান বলয়ের নেতারা অংশগ্রহণ করেনি। এতে করে মহানগর আওয়ামীলীগের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হচ্ছে। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভিন্ন ভিন্ন কারণে বেরিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘প্রভাব বিস্তার ও গুরুত্বহীনতার কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলটিতে দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে। মহানগর আওয়ামীলীগেও তেমনটি দেখা যাচ্ছে। সেসব কারণে এসব অন্তর্দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হচ্ছে।’

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদেরের জন্য ৫ মার্চ বিকেলে শহরের দুই নং রেল গেটস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করে মহানগর কমিটি। কিন্তু এতে দেখা যায়নি এমপি শামীম ওসমান অনুগামী কোন নেতাকে। আসেনি খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার মালাও। তাছাড়া শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ও অনুগামী হিসেবে পরিচিত চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলালও আসেনি।

অন্যদিকে গত ২ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের বহুল আলোচিত বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মার্চ শনিবার দুপুর থেকেই জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। এই জনসভাকে ঘিরে ২নং রেলগেইট এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। তবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, জাহাঙ্গীর আলম, আহসান হাবিবের মত নেতারা। সমাবেশে আনোয়ার হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কোন এক অজানা কারণে তিনি সহ তার অনুগামীরা সমাবেশে হাজির হননি। যদিও কয়েকদিন ধরে শহরে যে প্রচারণা ও মাইকিং চলছিল সেখানে আনোয়ার হোসেনের নাম বার বার বলা হয়েছিল।

ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে টানা ২ বছর ধরেই বেশ একত্রে রাজনীতি করে আসছিলেন সেক্রেটারী খোকন সাহা। প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন খোকন সাহা ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শামীম ওসমানের বিরোধ সৃষ্টি হয় দুই বছর আগে যুব মহিলা লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। ওই বিরোধের কারণেই ২ বছর শামীম ওসমানের কাছ থেকে বাহ্যিক দূরে ছিলেন খোকন সাহা। নিয়মিত রাজনৈতিকভাবে দেখা যেত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তবে হঠাৎ করেই সেই সু সম্পর্কে ছেদ পড়তে শুরু করেছে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী খোকন সাহার নেতৃত্বে একাংশ নেতাকর্মীরা এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে সম্প্রতি ফের জেগে উঠেছে। এদিকে জেলা ও মহানগর আওামীলীগের শীর্ষ পদীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীদের ২ মার্চ শামীম ওসমানের ডাকা সমাবেশে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়। তবে সেই সমাবেশ পরিচালনা ও সফল করার দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী খোকন সাহাকে। যদিও আব্দুল হাইয়ের পরেই পদ পদবী ও বর্ষীয়ান নেতাদের তালিকায় রয়েছেন মহানগর আওামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে হাই ও খোকন সাহাকে এই সমাবেশ সফল করার দায়িত্ব দেয়া হয়। যেকারণে মহানগর আওযামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনক্ষুন্ন হয়ে সমাবেশে উপস্থিত হননি। অন্যদিকে এই ঘটনা রেশ ধরে ওই সমাবেশে উপস্থিত হওয়া ওসমান বলয়ের অনুগামীরা মহানগরের অনুষ্ঠানগুলোতে অনুপস্থিত থাকছে। এতে করে মহানগর আওয়ামীলীগে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর