ব্যর্থ মিশনে সেই কামাল মৃধা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার
ব্যর্থ মিশনে সেই কামাল মৃধা

আলোচিত পল্টিবাজ নেতা হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য কামাল মৃধা যিনি নানা কৌশলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তবে সেই মিশন সফল না হলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এই নেতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সুসময়ের মাছির মত চরিত্রের অধিকারী এই নেতা কখনো আওয়ামীলীগ আবার কখনো বিএনপি দলে ভিড় করে বেশ বিতর্কিত হয়েছেন। যেকারণে সর্বশেষ মিশনে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘কামাল মৃধা বিতর্কিত সব কর্মকান্ডের মধ্য নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। যেকারণে এই নেতা কোন দলেই সুবিধে করতে পারছেনা। এর ফলে তিনি কখনো কখনো কচ্ছপের মত মাথা বের করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিলেও অধিকাংশ সময়ে খোলসের মধ্যে আত্মগোপনে চলে যান।’

জানা গেছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর খানেক আগে আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের যোগদান করে কামাল মৃধা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ বাগিয়ে নেন। দেশে ফিরে মেট্রোরেল প্রশস্তের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে করে আসছিলেন। এই আন্দোলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ‘এই আন্দোলন কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির জন্য নয়। তাছাড়া আমি রাজনীতিতে যোগদান করছিনা।’

তবে সময়ের ব্যবধানে তার সেই কথা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। অবশেষে আওয়ামীলীগে যোগদান করে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মনোনয়ন সহ নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যায়।

এগিকে গত ২৮ এপ্রিল শনিবার দুপুরে শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের কনভেনশন হলে নৌকার মাঝি সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কামাল মৃধা নিজের রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে গিয়ে নির্যাতন, জুলুম, মামলা ও মৃত্যুর পথ থেকে বেঁচে আসার ঘটনার কথাও বলেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে ‘রাজনৈতিক পিতা’ দাবি করে জানান তাঁর নির্দেশে জীবন রক্ষার জন্য বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তবে সেখানে তিনি কোন পদ পাননি। বরং সেটাও ছিল আদর্শগত ভাবে বিএনপি নয়। যা আনোয়ার হোসেনও জানেন।’

জানা গেছে, কামাল মৃধা এক সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কামাল মৃধা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। সেদিন তার সঙ্গে আরো বিএনপিতে যোগ দেন জাকির খান যিনি পরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই জাকির খান ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার পর পালিয়ে যায়। ২০০২ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর অপারেশন ক্লিনহার্টের সময়ে কামাল মৃধা দেশ ত্যাগ করে আমেরিকাতে পাড়ি জমান।

সূত্র বলছে, যখন যেখানে সুযোগ সুবিধার ছোঁয়া পেয়েছে তখন সেখানে ভিড় করেছেন এই নেতা। কখনো বিএনপি আবার কখনো আওয়ামীলীগ দলে ভিড় করেছেন তিনি। আবার পরিস্থিতি প্রতিকুল হলে কখনো দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন আবার কখনো আত্মগোপনে চলে গেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে এই নেতা রাজনীতি নয় বরং জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে শেষতক আওয়ামীলীগে ভিড় করে এই পল্টিবাজ নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেয়। এতে করে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠে। তবে শেষতক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মিশন ব্যর্থতায় পরিগনিত হয়। আর সেই ব্যর্থতার পরপরই কামাল মৃধা ফেল আত্মগোপনে চলে যায়। এখন তাতে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়না। আর উন্নয়নের বুলি আউরিয়ে কোন স্ট্যান্টবাজিও করতে দেখা যায়না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর