rabbhaban

সমালোচনার জবাব দিলেন সাখাওয়াতরা


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ১৪ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
সমালোচনার জবাব দিলেন সাখাওয়াতরা

বহু আলোচনা সমালোচনার পরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশের ইফতার মাহফিল সফল ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষুদেবার্তায় বিদ্বেষ ছড়ানো ও অযাচিত মন্তব্যের পরেও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। একই সাথে আদালতে ও গণমাধ্যমে আয়োজকদের নামে কুৎসা রটানো ও সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন তারা।

ইফতার মাহফিল আয়োজনের পূর্বেই তা বর্জনের ডাক দিয়ে বিদ্রোহী কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বলেন, বিতর্কিত জাতীয়বাদী আইনজাবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির এই ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে। তারা আওয়ামীলীগের দালাল, পেইড এজেন্ট। বিগত দিনে তারা ২ কোটি ২ লাখ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সকলেই জানে তারা একটি পরিবার থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করছে। এই দালালদের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ধ্বংস হয়ে যাবে।

অপরদিকে পাল্টা বক্তব্যে আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, আমাদের ডাকা ইফতার মাহফিল বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মিলনমেলায় রূপান্তরিত হবে। পবিত্র রমজানে আইনজীবীদের একত্রিত করার লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। আর এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে অতীতেও বাধা এসেছে এখনও আসছে। এটি আমাদের জন্য কোন সমস্যা না।

কিন্তু শত বাধা বিপত্তির পরেও বেশ ভালোভাবেই আয়োজন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন আয়োজকরা। মাত্র ২ আইনজীবী নেতার ডাকে এত বড় একটি অনুষ্ঠানের জনসমাগম করতে পারায় প্রতিপক্ষদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। কয়েকদিন ব্যাপী মুঠোফোনে বার্তা প্রেরণ করে চললেও আয়োজন থেকে একাংশের অনুপুস্থিত রাখতে পারা ব্যাতিত অন্য কিছুই করা সম্ভব হয়নি প্রতিপক্ষদের।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, চিহ্নিত কিছু ঘৃণা ছড়ানো ব্যাক্তিবর্গ ছাড়া বাকি সকলেই উপস্থিত হয়েছিলো ইফতার মাহফিলে। আমি জানতে চাই কেন এই ঘৃণা ছড়ানো? আমরা কি এখানে কাউকে সমালোচনা করতে বসেছিলাম? আমরা তো খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে সভা ও দোয়া মাহফিল করেছি। নেত্রীকে উৎসর্গ করে আয়োজিত প্রোগ্রামের যারা বিষেদাগার করে তাদেরকে সবাই ভবিষতে চিনে রাখবে। আমরা কখনই বিভেদ চাই না।

প্রায় একই সুরে জেলা আইনজীবী ফোরামের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, যারা ইফতারের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তারা একটা আয়োজন করুক। আমরা তো তখন তাদের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করবো না। তারা তৈমূর ভাইয়ের নেতৃত্বে অনশন পালন করেছে, কেউ তো পেছনে কটু মন্তব্য করেনি। উল্টো সেখানে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আমরা এখনও ঐক্যে বিশ্বাসী এবং আগামীতেও সেটিই করবো। কারণ বিভেদকারী একসময় না একসময় চিহ্নিত হবে এবং সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হবে।

সাখাওয়াত সমর্থকরা বলছেন, পবিত্র রমজানে ইফতার মাহফিল নিয়ে এমন রাজনৈতিক বিভেদ আগে দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেও বিভেদের চিত্র ফুটে উঠে খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সমালোচকদের ডাকা কর্মসূচীতে ১৪/১৫ জনের বেশী আইনজীবী একত্রিত হয়না বলেই আড়াই তিনশত আইনজীবীদের কর্মসূচীর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ায়। নতুন আইনজীবী ফোরাম গঠনের পরে ঐক্যবদ্ধ ভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবেই এই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর