rabbhaban

কাশিপুরে আওয়ামী লীগের শফি ও শাহিনের বিরোধে উত্তেজনা


ফতুল্লা করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:০০ পিএম, ১৫ মে ২০১৯, বুধবার
কাশিপুরে আওয়ামী লীগের শফি ও শাহিনের বিরোধে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দুই নেতার বিরোধ এখন প্রকাশ্যে রূপ ধারণ করেছে। তারা একে অপরকে ঘায়েল করতে নানা ধরনের কুট-কৌশল চালিয়ে আসছিল। আর একপর্যায়ে একজনে আরেকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে। আর সেই মামলায় একজন আওয়ামীলীগ নেতা কারাগারে রয়েছে। অথচ তারা একসময় গুরু-শিষ্য ছিল। তবে স্থানীয় প্রভাব বিস্তার ও জবরদখল নিয়ে গুরু-শিষ্যের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আওয়ামীলীগের এ দুই নেতার বিরোধ নিয়ে কাশিপুর দেওয়ানবাড়িসহ আশে পাশের মহল্লার দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কাশিপুর আওয়ামীলীগের একজন মো: শফিউল্লাহ শফি যিনি ফতুল্লা থানার আওয়ামীলীগ নেতা। আর অপরজন স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। তারা দুইজন একই মহল্লার এবং সম্পর্কে মামা ভাগিনা হলেও তাদের বিরোধ এখন সরকার দল ও বিরোধী দলের মত বিরোধের মত রূপ ধারন করেছে। কেউ কারো নাম শুনতে পারে না। শফি ও শাহিনকে নিয়ে কাশিপুরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে শফি ও শাহিনের দ্বন্ধে ৩য় পক্ষ সুবিধা গ্রহন সুবিধা গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শফিউল্লাহ শফি ও শাহিন আলম কাশিপুরে দীর্ঘদিন ধরে এক সাথে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছিল। সম্প্রতি একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শফি ও শাহিনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তারা উভয়ে এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাধে আলাদা ভাবে গ্রুপ তৈরি করে। আর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল।

গত কয়েকদিন আগে কাশিপুর হাজীপাড়া-চরকাশিপুর খেয়াঘাট নিয়ে সৃষ্টি হয় বিরোধ। গত কয়েক বছর ধরে শাহিন আলম সেই খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছে। এবার উপজেলায় টেন্ডারের মাধ্যমে খেয়াঘাটের ইজারা নেয় শফির লোকজন। শাহিন ইজারা না পাওয়ার কারনে খেয়াঘাটের বাশের সাকো শাহিন সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই নিয়ে শফি ও শাহিনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরায করে। আর সেই সূত্রধরে শফি পূর্বপরিকল্পিত ভাবে শাহিন ও জহিরুলের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। আর সেই মামলায় শাহিন আলম ও জহিরুল ইসলাম আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে শফির দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় যেই ডাইং কারখানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই কারখানার মালিকপক্ষ আদালতে হাজির হয়ে উকিলের মাধ্যমে ঘটনা সঠিক নয় বলে জানান।

এলাকাবাসী আরও জানান, শফি ও শাহিনের মধ্যে মূলত চাঁদাবাজির কোন ঘটনা নয়, স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধে শাহিনকে কোনঠাসা করতে শফি পরিকল্পিত ভাবে শাহিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। এ মামলা দিয়ে শফির শোল আনা পরিপূর্নতা পায়। শাহিনকে কারাগারে পাঠিয়ে শফি এলাকায় একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। কিন্তু শাহিনের লোকজন এলাকায় শক্ত ভাবে অবস্থান করে প্রতিপক্ষ শফিকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। যার কারনে কাশিপুর এলাকায় শফি ও শাহিন গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আর শাহিন কারাভোগের পর জামিনে বের হওয়ার পর দুই গ্রুপের বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর