rabbhaban

কর্মীদের রোষানলে যা ভাবছেন ছাত্রদল সভাপতি রনি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২২ মে ২০১৯, বুধবার
কর্মীদের রোষানলে যা ভাবছেন ছাত্রদল সভাপতি রনি

থানা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তৈরী হওয়া রোষানল ক্রমেই বেড়ে চলছে ছাত্রদলে। জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পূর্নাঙ্গ কমিটি তৈরী করতে পারেননি তারা। কারণ হিসেবে সভাপতি রনি তার দীর্ঘ কারাবাসকে দায়ী করলেও কর্মীরা এ অজুহাত মানতে নারাজ। একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি পূর্নাঙ্গ হলেও নেতাদের গাফলতির কারণেই কমিটি এখনও অপূর্নাঙ্গ রয়ে গেছে বলে দাবী কর্মীদের।

কর্মীদের এমন নীরব ক্ষোভ বেশ কিছুদিন ধরেই ভেতরে ভেতরে চলছিলো। তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় ১৫ মে থানা পর্যায়ের নেতাদের সাথে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করে ক্ষুদ্ধ নেতারা। জেলা কমিটিকে ২টি আল্টিমেটামও দেয় তারা। মূলত দ্রুত সময়ে থানা কমিটি গঠন এবং কমিটিতে জেলা কমিটির পদ পাওয়া নেতাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অন্যাথায় জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়েই আলাদাভাবে দলীয় কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় হয়।

পরদিন এই দুইটি আল্টিমেটামের ঘোষণা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আনতে চিঠি প্রেরণ করে থানা পর্যায়ের নেতারা। চিঠিতে উলেখ করা হয়, ১৮ থেকে ১৯ বছরে থানা কমিটির বন্ধ্যাত্ব শেষ না করে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক পদের উচ্চ লালসা ও থানা কমিটি গঠনে চরম অনীহা আমরা পাঁচটি থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মোটেও ভালো চোখে দেখছি না। থানা ও ইউনিট কমিটিগুলো গঠন না করে জেলা ছাত্রদলের পদধারী নেতারা আবার নেতা হওয়ার চরম লজ্জাজনক ও ঘৃণিত গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জেলার শীর্ষ দুই নেতা ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ যথাক্রমে জেলা ছাত্রদলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। এই লক্ষ্যে দেশ বিদেশে জোরালো লবিংও করছেন তারা। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচয়হীন রেখে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উচ্চবিলাসী মনোভাব ও চরম স্বেচ্ছাচারিতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এমন অদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীনস্থ ৫টি থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উলে¬খিত সিদ্ধান্তসমূহ ঐক্যমতে পৌঁছেছি।

আগামী ৭ দিনের মধ্যে দ্রুততম সময়ে পাঁচটি থানা কমিটি একসাথে ঘোষণা করতে হবে। কেন্দ্র কর্তৃক ঘোষিত জেলা কমিটিতে যে বা যারা পদ পেয়েছে তারা থানা কমিটিতে আসতে পারবেন না।

যদি উপরের সিদ্ধান্ত দুটি যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয় তাহলে থানা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ২২ মে থেকে জেলা ছাত্রদলের সাথে যৌথভাবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। পাঁচটি থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে ব্যানারে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে।

তাদের এমন অবস্থানের পর স্বাভাবিক ভাবেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা কমিটি। বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের কার্যক্রম পরিষ্কার না করলেও পাল্টা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন গণমাধ্যমে। নিউজ নারায়ণগঞ্জকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি জানান, যারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তাদের ভেতর আবু মোঃ মাসুম আমাদের অন্যতম একজন ত্যাগী নেতা এ ব্যাপারে আমাদের কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বাকি যারা রয়েছে তারা কে কয়বার কারাবরণ করেছেন আর আন্দোলনে সক্রিয় থেকে পুলিশি নির্যাতন সহ্য করেছেন তা জানতে চাই। আমরা এমন ভাবেই কমিটি গঠন করতে চাই যেভাবে কমিটি কার্যকর থাকবে। নামকাওয়াস্তে কমিটি প্রদান করে নেতা বানিয়ে বসে থাকতে চাই না। যেসব থানায় সক্রিয় ও সংগঠন করার মত নেতা রয়েছেন সেসব থানায় অবশ্যই তাদের হাতে নেতৃত্ব দেয়া হবে। আর যে সব থানায় নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজন আছে সেসব থানায় জেলার কোন নেতাকে সাময়িক ভাবে দায়িত্ব দেয়া হবে যা তিনি পরবর্তীতে কমিটিকে সুসংগঠিত করে সরে আসবেন।

তবে তার এমন সিদ্ধান্তে দ্বিমুখী অবস্থানে রয়েছে উভয় পক্ষ। কেউ কেউ একে স্বাগত জানালেও মানতে পারছেন স্বাক্ষর করে নেতৃবৃন্দরা। তাদের দাবী না মানা হলে ঘোষণা অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেয়ার ব্যাপারেও তারা অনড় রয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর