rabbhaban

ব্যতিক্রম বন্দর উপজেলা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ২২ মে ২০১৯, বুধবার
ব্যতিক্রম বন্দর উপজেলা

গত ৩১ মার্চ ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে যায় সারাদেশের ১৫৯ টি উপজেলার নির্বাচন। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসকল উপজেলার প্রত্যেকটিতেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে এবারের ৫ম ধাপে আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য বন্দর উপজেলা নির্বাচনে। এই উপজেলায় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। সকলেই কেন্দ্রীয় মনোনীত প্রার্থী এম রশিদকে নিঃসংকোচভাবে মেনে নিয়েছেন। আর এটি সম্ভব হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানের কারণে। তিনি বলার সাথে সাথে সকলেই মেনে নিয়েছেন।

সূত্র বলছে, আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে ৫ম ধাপের উপজেলা নির্বাচন। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাও রয়েছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৯ মে ৫ম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩১ মে। ওই দিন থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে এই উপজেলা নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক প্রধান দল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে।

বন্দর উপজেলার এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন মিলে বন্দর উপজেলা থেকে তিনজনের নাম পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম।

এদের মধ্যে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী। আর তাকেই কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে শামীম ওসমানের পছন্দকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেনি। সকলেই এম এ রশিদের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমে এসেছেন।

যার ধারাবাহিকতায় ২১ মে শামীম ওসমানকে সাথে নিয়ে এম এ রশিদ সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পিন্টু ব্যাপারীর কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

এসময় শামীম ওসমান বলেন, বন্দর উপজেলায় অনেকেই প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু যখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ ভাইকে মনোনয়ন দিয়েছেন তখন অন্যরা একবাক্যে বলেছেন আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান দিব। সকলেই প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইট বালুর খবর রাখেন। এ কারণেই কোন তদবির ছাড়াই এম এ রশিদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

তবে বন্দর উপজেলায় আওয়ামীলীগের কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলায় ঠিকই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। রূপগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মো: শাহজাহান ভূইয়ার পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী মো: তাবিবুল কাদির তমাল আনারস প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন।

একইভাবে আড়াইহাজার উপজেলায় আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকে প্রার্থী মুজাহিদর রহমান হেলো সরকারের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ইকবাল হোসেন মোল্লা আনারস প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন। অন্যদিকে সোনারগাঁ উপজেলাতেও আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেনে পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম ঘোড়া মার্কা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন।

এরা সকলেই শেষ পর্যন্ত বেশ শক্তভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে গেছেন। যদিও কেউ শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থীদের সাথে পেরে উঠতে পারেনি। নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদেরই জয় হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর