rabbhaban

ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবিতে কৃষক দলের স্মারকলিপি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ২৬ মে ২০১৯, রবিবার
ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবিতে কৃষক দলের স্মারকলিপি

কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্যে নিশ্চিতের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের নেতাদের সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকর।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৬ মে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক অনুপস্থিত থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ সেলিম রেজার কাছে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্মারকলিপি জমাদানকালে কৃষক দলের নেতাদের ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

স্মারকলিপি জমাদান শেষে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, কৃষকরা যদি ধানের ন্যায্য মূল্য না পায় তাহলে তারা ধান চাষ করবে না। বিপল্প কোন কিছু চাষ করবে। আমরা মাছে ভাতে বাঙালী। বাঙালী বেঁচে থাকতে হলে ভাত খেতে হবে। কৃষকরা যদি ধান চাষ না করে তাহলে বাঙালীর না খেয়ে মরতে হবে। এজন্য কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রদানকৃত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বোরো ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উৎপাদিত ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেকগুণ কম হওয়ায় কৃষকরা হাহাকার করছে। উৎপাদন খরচ থেকে তিনশ টাকা কমে প্রতি মন ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে ছয় হাজার টাকা। ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট ও নেত্রকোণা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকরা পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, পাকা ধানে মই দিচ্ছে, সড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করছে। সরকার প্রতি মন ধান কেনার জন্য ১ হাজার ৪০ টাকা প্রদান করলেও কৃষকদের হাতে যাচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বাকী টাকা যাচ্ছে সরকারের আনুকুল্য পাওয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। এ নিয়ে সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই।

আরও উল্লেখ করা হয়, ধানের দাম কমার জন্য উদ্ভুত সংকটে সরকার উদাসীন। এ বিষয়ে সরকারের কোন দায় নেই বলে কৃষিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণেই কৃষকরা উৎপাদিত ধানের মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ কৃষকরাই বাংলাদেশের আত্মা ও দেশের প্রাণ। কৃষকদেরর রক্ষা করতে না পারলে দেশে দুর্যোগ নেমে আসবে। তারা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে, ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মরবে। আর তাই তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান ক্রয় না করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা ও মধ্যস্থত্বভোগী সিন্ডিকেটে দৌরাত্ম বন্ধ করার সরকারকে আহবান জানানো হচ্ছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন খান, প্রবীণ বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন কালু, জেলা কৃষক দলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক মো: সলিম উদ্দিন সেলিম, শহর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হক চৌধুরী দিপু, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষাণী, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, মহানগর যুবদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শিপলু, জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি মো: নাসির উদ্দিন, মহানগর শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেন, যুবদল নেতা সরকার আলম, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ, জামাল হোসেন, আক্তার জাবেদ ও নজরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর